অভিজিৎ ব্যানার্জি, ঢাকা: একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যবসায়ীদের ভূমিকা অপরিসীম। তারা শুধু নিজেদের ব্যবসা পরিচালনা করেন না; বরং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রপ্তানি ও রেমিট্যান্স প্রবাহে অবদান এবং নিয়মিত ভ্যাট-ট্যাক্স প্রদানের মাধ্যমে রাষ্ট্রের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। দেশ এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা সরকারের অন্যতম সহযোগী শক্তি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন।
পিওর হোল্ডিংস লিমিটেডের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম মনে করেন, অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রথম শর্ত হলো একটি সুশৃঙ্খল ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ। তাঁর ভাষায়, “শৃঙ্খলা ছাড়া কোনো জাতি টেকসইভাবে এগিয়ে যেতে পারে না। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে যেকোনো মূল্যে দুর্নীতিকে ‘না’ বলতে হবে।”
তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। এর মধ্যে ব্যাংকঋণ পাওয়া অন্যতম বড় সমস্যা। অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ব্যবসার সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ঋণ পেতে ব্যবসায়ীদের নানা ধরনের জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করে যোগ্য উদ্যোক্তাদের স্বচ্ছ ও সহজ প্রক্রিয়ায় ঋণ নিশ্চিত করা গেলে এর সুফল পুরো অর্থনীতিতেই পড়বে।
যোগ্য উদ্যোক্তারা যথাযথ প্রক্রিয়ায় ঋণ পেলে সেই অর্থ ব্যবসা সম্প্রসারণ, নতুন শিল্প স্থাপন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিনিয়োগ করতে পারেন। বিপরীতে অনিয়মের মাধ্যমে অযোগ্য ব্যক্তিদের ঋণ দেওয়া হলে ঋণ আদায় ব্যাহত হয়, খেলাপি ঋণ বাড়ে এবং শেষ পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকটসহ নানা সমস্যা তৈরি হয়। এর দায় শুধু কোনো একজন কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে পুরো ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা প্রয়োজন।
ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে উদ্যোক্তারা আরও সাহসী হবেন, বিনিয়োগ বাড়বে এবং বেকারত্ব কমবে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা নিয়ম মেনে ভ্যাট-ট্যাক্স প্রদান করলে সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে। অর্থাৎ ব্যবসার বিকাশ মানেই শুধু ব্যবসায়ীর লাভ নয়; এর সঙ্গে দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নও সরাসরি যুক্ত।
আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে দুর্নীতির পরিবর্তে সততা, অনিয়মের পরিবর্তে শৃঙ্খলা এবং বাধার পরিবর্তে উদ্যোক্তাবান্ধব পরিবেশ থাকবে। আজকের নতুন প্রজন্ম তাদের মেধা, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে আরও মর্যাদার সঙ্গে তুলে ধরবে—এই প্রত্যাশাই আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে বড় প্রেরণা।