হিন্দু সংগঠনের ব্যানারে করছেন চাঁদাবাজি, ব্যবসায়ীদের সাথে প্রতারণার মাস্টারমাইন্ড- সুস্মিতা কর দাস

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:   হিন্দু সম্প্রদায়ের অধিকার আদায় ও  নির্যাতনের প্রতিবাদ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পরিচয়কে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের পর সেই আস্থাকে ব্যবহার করে অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়া ও প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ ও প্রমান রয়েছে এক রহস্য জনক নারীর সুস্মিতা করের বিরুদ্ধে। 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায় সুস্মিতা কর দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে বিভিন্ন সামাজিক ও হিন্দু অধিকারভিত্তিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে উপস্থাপন করে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।কিন্তু তার সঠিক পরিচয়,স্থায়ী ঠিকানা, সাংগঠনিক পদ বা দায়িত্ব সম্পর্কে স্বচ্ছ তথ্য ও সত্যতা না থাকার অভিযোগ রয়েছে। 

পল্টন দাস নামে এক ব্যবসায়ীকে ধর্মীয় রীতি রেওয়াজ মেনে বিবাহ পরবর্তী  চিকিৎসার অজুহাতে ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা হাওলাত গ্রহণ করেন,চিকিৎসা না করিয়ে আরও টাকার জন্য ব্যবসায়ীকে চাপ প্রয়োগ করলে বাধে বিপত্তি। বিষয়টি মামলা পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী।  আরও গুরুতর অভিযোগ হলো—বিভিন্ন সিনিয়র ব্যক্তির কাছ থেকে ব্যক্তিগত প্রয়োজন, চিকিৎসা কিংবা সামাজিক কর্মকাণ্ডের কথা বলে অর্থ নেওয়া হয়েছে। সমবয়সী তরুণদের ক্ষেত্রেও ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা ও আবেগকে কাজে লাগিয়ে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে,এসব অভিযোগের সমর্থনে ভয়েস রেকর্ড, প্রত্যক্ষদর্শী ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে, যা প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা যাবে। 

নেতিজনদের মতে  উদ্বেগের বিষয় হলো—ধর্মীয় আবেগ, সংখ্যালঘু অধিকার এবং নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়কে ব্যবহার করে কেউ যদি মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধা নেন, তাহলে সেটি শুধু একজন ব্যক্তির ক্ষতি নয়; পুরো সামাজিক ও মানবিক আন্দোলনের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে। তাই কোনো ব্যক্তি নিজেকে হিন্দু অধিকারকর্মী, ছাত্রনেত্রী, সমাজকর্মী কিংবা নির্যাতিত মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দিলেই তার কথায় অন্ধভাবে বিশ্বাস না করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। ব্যক্তিগত সম্পর্ক বেতীত আবেগ চিকিৎসা,অসহায় মানুষের সাহায্য কিংবা ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের কথা বলে অর্থ দাবি করা হলে যথাযথ যাচাই ছাড়া টাকা না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সচেতন ব্যক্তিরা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আনার দাবি জানান অনেকেই।

More From Author

১৩ দফা শিক্ষা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের গোলটেবিল বৈঠকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent Comments

No comments to show.