ইয়াসিন খান পলাশ হত্যার বিচার চাওয়ায় মা ও স্বজনদের হত্যার হুমকি ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

অভিজিৎ ব্যানার্জি, ঢাকা:   ছেলে ইয়াসিন খান পলাশ হত্যার বিচার চাওয়ার, আসামীদের দ্বারা তার মা মোসা: আমেনা বেগম ও তার  স্বজনদের হত্যার হুমকি ও মিথ্যা মামলা দিয়ে বাড়ি ঘর ছাড় করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী পরিবার। আজ ২২ আগস্ট ২০২৬ইং শনিবার রাজধানী ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের ৩য় তলায় আব্দুস সালাম হলে উক্ত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইয়াসিন খান পলাশ এর মা মোসা: আমেনা বেগম। এই সময় তাদের স্বজনদের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। 

লিখিত বক্তব্যে মোসা: আমেনা বেগম বলেন, আমার স্বামী মো: ইউনুস খান ৪৬০ ডিআইটি রোড পশ্চিম রামপুরা থানা হাতিরঝিল এই মর্মে আপনাদের সামনে তুলে ধরছি যে গত ১২ই জুন রোজ শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে আমার ছেলে ইয়াসিন খান পলাশ বাড়ির খুব কাছাকাছি পৌঁছলে সন্ত্রাসীরা পলাশের উপর হামলা চালায় উক্ত ঘটনায় সন্ত্রাসীরা পলাশের খুব কাছ থেকে গুলি চালায় এই গুলি পলাশের মাথায় আঘাত করে এতে পলাশকে আশঙ্কা জনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভার কেয়ার হসপিটালে স্থানান্তর করা হয় পরে ২০/৬/২০২৬ তারিখে পলাশ এভার কেয়ার হসপিটালে মৃত্যুবরণ করে আমার একমাত্র ছেলে সন্তান মৃত ইয়াসিন খান পলাশ।

আমার ছেলে এলাকায় বিভিন্ন রকম ঠিকাদারি ব্যবসায় জড়িত ছিল। দীর্ঘদিন যাবত ওর ব্যবসায় ওর ই দুই বন্ধু হাসান ও মিরাজ জড়িত ছিল। প্রতিষ্ঠানের নাম মেসার্স থ্রি ভিউ এন্টারপ্রাইজ যাহা ওঁরা ই-ট্রেড লাইসেন্স করে পরিচালিত করে। মৃত্যুর কিছুদিন আগে ব্যবসায়ী হিসাব নিয়ে কিছু দ্বন্দ্ব শুরু হয় যা আমি আমার ছেলের স্ত্রী থেকে শুনতে পাই। মৃত্যুর পর জানতে পারি কে বা কারা আমার ছেলেকে মসজিদে নামাজ পড়ার কথা নিষেধ করে যেহেতু আমার ছেলে এলাকার ঠিকাদারি ওর ইন্টারনেট ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল তাই অনেকেরই হিংসার পাত্র ও অনেকেই ওর কাজে বাধা হয়ে দাঁড়াতো। 

এদের মধ্যে যেমন মোবাইল টিপু, সাইফুল কন্টোক্টর, বিল্লাল কন্টোক্টর, গুজা বাদশা, বলদা বাদশা ,জীবন,মোল্লা জনি, পিচ্চি আলামিন, লম্বা ফয়সাল, কালা জিহাদ, মামুন, এবাইদুল আরও অনেকেই ছিল। মূলত এই সকল কারণে ও এলাকার বিভিন্ন লোকের শত্রু হয়ে ওঠে এবং অনেকের জনপ্রিয়ও হয়ে ওঠে। এলাকায় ওর জনপ্রিয়তা এতটাই বেশি ছিল তাই অনেকের চোখে কাটা বলেন আর পথের কাঁটায় বলেন ব্যবসায়িক হিসেবে হাসান ও মিরাজ এলাকার আধিপত্য বজায় রাখে। মোবাইল টিপু, সাইফুল কন্টোক্টর, বিল্লাল কন্টোক্টর, গুজা বাদশা, বলদা বাদশা, জীবন, মোল্লা জনি, এদের সকলের সমন্বয়ে আমার ছেলে পলাশের বিরুদ্ধে বিরোধী একটা গ্রুপ সক্রিয় হওয়া যা পরবর্তীতে ওরা সবাই শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের সহায়তায় আমার ছেলে ইয়াসিন খান পলাশকে হত্যা করে।

আমার ছেলে পলাশ গুলিবিদ্ধ আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালীন ছেলের স্ত্রী মাহমুদা খানম ইভা হাতিরঝিল থানায় ১৩/৬/২০১৬ তারিখে একটি মামলা করে মামলা নং৮/২০২৬ইং যাহা বর্তমানে ডিবিতে তদন্তানাধীন আছে এবং আমার ছেলে পলাশের মৃত্যুর পর আমি একটি হত্যা মামলা ৯/৭/২০২৬ইং কোর্টে দায়ের করি যাহা মামলা নং ৭২৩/২০২৬ এই মামলাটি বর্তমানে ডিবিতে তদন্তানাধীন আছে। এই দুই মামলায় অত্যন্ত ধীরগতি ও আসামি গ্রেপ্তার না করা তালবাহানা করিয়া সময় নষ্ট করিতেছে অন্যদিকে আমিও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এই মর্মে আমি প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হস্তক্ষেপ কামনা করছি। 

সবশেষে তার ছেলে হত্যার বিচার ও তাদের জান মালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দান করতে সরকার সহ সবাইকে আহবান জানান। 

More From Author

অর্থের বিনিময়ে মোবাইল লোকেশন বাণিজ্য: কনস্টেবল ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগ 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent Comments

No comments to show.