বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা: অর্থের বিনিময়ে সাধারণ মানুষের গোপন তথ্য ও ‘লাইভ লোকেশন’ ব্যক্তিগতভাবে সরবরাহ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ব্যাটালিয়ন পুলিশের কনস্টেবল মোঃ ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে। মাত্র ৫০০ থেকে ২০০০ টাকার বিনিময়ে তিনি যেকোনো মোবাইল নাম্বারের তাত্ক্ষণিক অবস্থান (Location) ট্র্যাক করে অপরাধমূলক বা অনৈতিক সুবিধাভোগীদের হাতে তুলে দিচ্ছেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব যেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সেখানে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা হরণ করছেন এই পুলিশ সদস্য। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এক সাংবাদিক তার সাথে যোগাযোগ করে একটি নাম্বারের অবস্থান জানতে চাইলে তিনি নির্দিষ্ট অংকের অর্থ গ্রহণ করে মুহূর্তের মধ্যেই ওই নাম্বারের লাইভ লোকেশন প্রদান করেন। যার যাবতীয় তথ্য ও অডিও-ভিডিও প্রমাণ বর্তমানে সংরক্ষিত রয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রীয় ট্র্যাকিং প্রযুক্তি কেবল অপরাধ দমন বা আদালতের নির্দেশে ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও অর্থের লোভে এভাবে ব্যক্তিগত লোকেশন বিক্রি করা সরাসরি সাইবার অপরাধ এবং সংবিধানের ৪৩ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত নাগরিকের গোপনীয়তার অধিকারের চরম লঙ্ঘন।
‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ অনুযায়ী এটি গুরুতর অসদাচরণ, ঘুষ গ্রহণ ও দুর্নীতি। শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন কর্মকর্তার এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বাহিনীটির পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। দ্রুততম সময়ে অভিযোগ তদন্ত করে কনস্টেবল মোঃ ইব্রাহিমকে বরখাস্তসহ তার বিরুদ্ধে আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।