দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের প্রশাসনিক কার্যালয় পাগলা মৌজায় স্থাপনের দাবি

অভিজিৎ ব্যানার্জি, ঢাকা:   নবগঠিত ময়মনসিংহের দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার  সদর দপ্তর গেজেট অনুযায়ী নয়াবাড়ী মৌজায় স্থাপন করা হলে তা উপজেলার একপ্রান্তে পড়বে, যার ফলে অধিকাংশ বাসিন্দাকে প্রশাসনিক সেবা পেতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। এই বিষয়টি নতুন উপজেলা গঠনের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে তারা মনে করেন দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার সাধারণ জনগণ। তাই উপজেলার প্রশাসনিক দপ্তর ভৌগোলিক মধ্যস্থল পাগলা মৌজায়, অর্থাৎ পাগলা থানা–সংলগ্ন এলাকায় স্থাপনের জোর দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও নাগরিক ঐক্য’।

গতকাল মঙ্গলবার ২১ জুলাই ২০২৬ইং  রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান ফুরকান এই দাবি উত্থাপন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাংবাদিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ আকতার হোসেন, জেলা যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বাবুল, সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, নিগুয়ারী ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন প্রধান, এবং ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা আবু সাঈদ ও শামীম হাসানসহ অন্যান্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ১ জুলাই জাতীয় বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির (নিকার) সভায় পাগলা থানার অধীনে মশাখালী, পাঁচবাগ, পাইথল, উস্তি, লংগাইর, দত্তের বাজার, নিগুয়ারী ও টাংগাব—এই আটটি ইউনিয়ন নিয়ে নতুন উপজেলা গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে প্রকাশিত গেজেটে উস্তি ইউনিয়নের নয়াবাড়ী মৌজাকে সদর দপ্তর হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। নেতাদের অভিযোগ, স্থানীয় সংসদ সদস্য আকতারুজ্জামান বাচ্চুর ব্যক্তিগত ইচ্ছায় কোনো গণশুনানি ছাড়াই জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এই একপেশে প্রতিবেদন দিয়েছে।

বক্তারা দাবি করেন, পাগলা মৌজা উপজেলার আটটি ইউনিয়নের ভৌগোলিক কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত। এখানে আগে থেকেই থানা ভবন, ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক, রেলপথ, বড় বাজার ও ব্যাংকিংসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বিদ্যমান থাকায় স্বল্প সময়ে ও কম খরচে এখানে সদর দপ্তর স্থাপন করা সম্ভব। স্থানীয়রা নতুন উপজেলার অস্থায়ী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পাগলা থানা–সংলগ্ন এলাকায় অন্তত ২০টি ভবন বিনা ভাড়ায় ব্যবহারের সুযোগ দিতে সম্মত হয়েছেন এবং স্থায়ী প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি সরকারের নামে বিনামূল্যে হস্তান্তরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

সরকারের প্রতি এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তাদের দাবি মেনে নেওয়া না হলে ঢাকা–ময়মনসিংহ রেলপথ অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

সংগঠনের নেতাদের অভিযোগ, স্থানীয় সংসদ সদস্য আকতারুজ্জামান বাচ্চুর ব্যক্তিগত ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়ে গণশুনানি ছাড়াই জেলা ও উপজেলা প্রশাসন একপেশে প্রতিবেদন দিয়েছে। তাদের দাবি, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে নতুন উপজেলার অধিকাংশ বাসিন্দাকে আগের মতোই ৩০ থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে গিয়ে প্রশাসনিক সেবা নিতে হবে।

More From Author

শিক্ষা মন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী চাকুরী জাতীয়করণ ঐক্যজোটের 

হকার উচ্ছেদ করার আগে কর্মচারীদের নিয়োগপত্র, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ও পুনর্বাসন করুন- বাংলাদেশ দোকান কর্মচারী ফেডারেশন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent Comments

No comments to show.