জনস্বাস্থ্য রক্ষার স্বার্থে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি আইনে রূপান্তর হবে- নুরুল ইসলাম মনি

অভিজিৎ ব্যানার্জি, ঢাকা:   বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে তামাক নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ই-সিগারেট নিষিদ্ধের ধারাসহ তামাক নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ কে কোন প্রকার পরিবর্তন ছাড়াই যেন আইনে রুপান্তর করা হয়, তার জন্য তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলে জানান জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ জনাব নুরুল ইসলাম মনি এমপি। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ধূমপান অবশ্যই বর্জন করা উচিত। নিজে ধূমপান না করা, তামাক জাত পণ্য বর্জন করা এবং আশেপাশের সবাইকে তামাক জাত পণ্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

আজ শনিবার (৪ এপ্রিল,২০২৬) সিরডাপ ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে নারী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় “ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন” শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক একটি নীতি-সংলাপের আয়োজন করে তাবিনাজ (তামাক বিরোধী নারী জোট) ও উবিনীগ (উন্নয়ন বিকল্পের নীতি নির্ধারণী গবেষণা)। এই সভায় বক্তারা নারী ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় “ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যাবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫” কে কোনরূপ পরিবর্তন ছাড়া দ্রুত আইনে রূপান্তর করে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালি করার দাবি জানান ।

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন, মহান জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ জনাব নুরুল ইসলাম মনি, এমপি। উক্ত নীতি-সংলাপে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সীমা দাস সীমু, পরিচালক, উবিনীগ এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হাসানুল হাসিব আল গালিব, কো-অর্ডিনেটর, টোব্যাকো কন্ট্রোল প্রজেক্ট, উবিনীগ। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার না করলেও পরোক্ষ ধূমপানের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, তামাক কোম্পানী নানা কূট-কৌশলে তরুণদেরকে লক্ষ্য করে প্রচারণা চালিয়ে থাকে। ই-সিগারেট তাদের মধ্যে অন্যতম। এটি তরুণ সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তাই ই-সিগারেট নিষিদ্ধকরণ ও পণ্য প্রদর্শন বন্ধের ধারা বহাল রেখে যেন অধ্যাদেশটি পাস হয় সেটি নিশ্চিত করতে তিনি প্রধান অতিথির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

উবিনীগের পরিচালক সীমা দাস সীমু বলেন, তামাকের কারণে নারীরা ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছেন। কর্মক্ষেত্রে ১৯%, গণপরিবহনে ৩৮% এবং বাড়িতে ৩৭% নারী পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। গর্ভাবস্থায় তামাক সেবন বা পরোক্ষ ধূমপান গর্ভস্থ সন্তানের অপরিণত জন্ম বা কম ওজনের ঝুঁকির প্রধান কারণ।

অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইন্সটিউটের সাবেক বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এম. এ. সোবহান বলেন, তামাক কোম্পানী তরুণদের টার্গেট করে, নিত্য নতুন ফ্লেভারে ই-সিগারেট বাজারজাত করছে। তাই ই-সিগারেট কে তামাক পণ্যে হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে জারীকৃত অধ্যাদেশটিকে আইনে রুপান্তর করা হলে তা যুগোপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।

নারী, শিশু ও তরুণ প্রজন্মের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই অধ্যাদেশটি অপরিবর্তিতভাবে অবিলম্বে জাতীয় সংসদে পাস করে পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত করে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করার জন্য জোরালো আহ্বান জানানো হয়। উক্ত নীতি সংলাপে তাবিনাজ সদস্য, কৃষক ফেডারেশনের সদস্য, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী,  বিভিন্ন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং সাংবাদিকবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন ।

More From Author

বর্তমান সরকারের কার্যক্রমে গ্রাম পুলিশের সাহসী ভূমিকা রাখতে হবে- লাল মিয়া

বাউলরাই পারে দেশের সংস্কৃতি চর্চার গোড়া ধরে রাখতে – ইঞ্জিনিয়ার মোঃ রেজাউল ইসলাম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent Comments

No comments to show.