অভিজিৎ ব্যানার্জি, ঢাকা: স্বতন্ত্রভাবে অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন-২০২৪ এ নির্বাচিত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানদের পুনরায় স্বপদে বহালের দাবি জানানো হয়েছে। আজ ১০ ই মার্চ মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকার রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সারা দেশের বিভিন্ন উপজেলার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালে বিভিন্ন ধাপে অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ছিল নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ। ওই নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীক বা মনোনয়ন ছিল না। সারা দেশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানরা জনগণের ভোটে বিজয়ী হয়ে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।
তারা অভিযোগ করেন, পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত ১৮ ও ১৯ আগস্ট ২০২৪ তারিখে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা-১ শাখার একাধিক পত্রের মাধ্যমে উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৪ এর ধারা ১৩ (ঘ) প্রয়োগ করে দেশের ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানদের অপসারণ করে। একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) সাময়িকভাবে প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা প্রদান করা হয়।
বক্তারা বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা প্রশাসনিক দায়িত্বে ব্যস্ত থাকায় তৃণমূল জনগণের সঙ্গে তাদের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ সীমিত। ফলে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হয়েছে এবং নাগরিক সেবায় বিঘ্ন ঘটছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
তারা আরও বলেন, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ বা শুনানি ছাড়াই একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করা হয়েছে, যা সংবিধানের ২৬, ২৭, ৩১ ও ৫৯ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। এ বিষয়ে একাধিক মামলায় আদালত থেকে ন্যায়বিচার পাওয়া সত্ত্বেও এখনো তাদের দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে তারা উল্লেখ করেন, অন্যদিকে অতীতে দলীয় প্রতীকে নির্বাচিত অনেক জনপ্রতিনিধি এখনো দায়িত্বে বহাল আছেন। একইভাবে বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত উপজেলা পরিষদের প্রতিনিধিদের অপসারণ করা হয়েছে, যা বৈষম্যমূলক বলে তারা দাবি করেন।
বক্তারা বলেন, তারা আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাব ও বিভিন্ন চাপ উপেক্ষা করে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনগণের ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। ভবিষ্যতেও অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জনগণের ভোটে আবারও বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে তারা আশাবাদী।
সংবাদ সম্মেলনে তৃণমূল পর্যায়ের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা এবং জনগণের সেবার স্বার্থে ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত দেশের সকল উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানদের পুনরায় স্বপদে বহালের জন্য বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।