মো: সাইফুল আলম সরকার, ঢাকা: বারভিডা সদস্যবৃন্দ প্রায় ৪ দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির জাপানের বিশ্বখ্যাত রিকন্ডিশন্ড মোটরযান আমদানি ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে দেশের পরিবহন খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা করে চলেছে। বর্তমানে জ্বালানি সংকট এবং আমদানিতে সমস্যা ছাড়াও ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নাভিশ্বাসের চিত্র তুলে ধরতে আজ ২মে ২০২৬ রাজধানী ঢাকার বিজয়নগরে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বারভিডা।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে বারভিডার সভাপতি আবদুল হক বলেন, ২০২৪ সালের পর বৈদেশিক মুদ্রার সংকট কিছুটা কমলেও শুল্ক ও কর হার অপরিবর্তিত থাকার মধ্যে ‘টাকার অবমূল্যায়নের’ কারণে আমদানিকৃত গাড়ির দাম বেড়েছে। এতে অধিকাংশ ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে গেছে গাড়ি, যার ফলে বিক্রিও কমেছে। লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, আমরা দেশের একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ ও স্বস্তিকর মোটরযানের বাজার তৈরি করে মানসম্পন্ন বাহন সরবরাহ করে চলেছি। আমাদের এই ৪ দশকের পথ চলায় এ খাতের ভূমিকা এবং আমাদের নানা কার্যক্রম ভোক্তা, নীতি নির্ধারক ও দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে আপনাদের অসামান্য সহযোগিতা অনেক ভালো ভূমিকা পালন করছে।
তিনি আরো বলেন, কন্ডিশন এবং ইভি গাড়ির শুল্কমান। আমাদেরকে শান্তিরমতো ব্যবসা করতে দিন। আমরা ব্যবসা করতে এসেছি চুরি করতে আসিনি। আগামী অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে জ্বালানি সাশ্রয়ী হাইব্রিড গাড়ি, প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ি ও জাপানের রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিতে শুল্ক কমানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)।
একই সঙ্গে গণপরিবহন হিসেবে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসের সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার, পিকআপে শুল্ক কমানো, নতুন ও রিকন্ডিশন্ড গাড়ির শুল্কায়ন বৈষম্য দূর করা এবং আমদানিযোগ্য গাড়ির বয়সসীমা ৫ বছর থেকে ৮ বছরে উন্নীত করার দাবি তুলেছে সংগঠনটি।
সংগঠনের লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, আমদানি শুল্ক, আয়কর, ভ্যাট ও ‘রোড ট্যাক্স’ দেওয়ার মাধ্যমে তারা কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধিতেও অবদান রাখছে। এ ব্যবসাকে ভিত্তি করে ব্যাংক, লিজিং কোম্পানি ও বীমা কোম্পানির কার্যক্রমও সম্প্রসারিত হয়েছে।
সংগঠনটি জানায়, ২০২৪ সালের পর বৈদেশিক মুদ্রার সংকট কিছুটা কমলেও শুল্ক ও কর হার অপরিবর্তিত থাকার মধ্যে ‘টাকার অবমূল্যায়নের’ কারণে আমদানিকৃত গাড়ির দাম বেড়েছে। এতে অধিকাংশ ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে গেছে গাড়ি, যার ফলে বিক্রিও কমেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জাপান থেকে বাংলাদেশে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। কেনিয়া, শ্রীলঙ্কা ও তানজানিয়ার চেয়েও বাংলাদেশে ‘কম’ গাড়ি আমদানি হয়েছে বলে দাবি তাদের।
বিআরটিএর তথ্য তুলে ধরে বারভিডা জানায়, ২০১৫ সালে ২১ হাজার ৯৫২টি, ২০১৬ সালে ২১ হাজার ২৯টি এবং ২০১৭ সালে ২০ হাজার ২৬৮টি গাড়ি নিবন্ধিত হলেও ২০২৩ সালে তা কমে ১০ হাজার ৭৮৪টিতে নেমে আসে। ২০২৪ সালে নিবন্ধন হয় ১০ হাজার ৪৯৯টি, আর ২০২৫ সালে তা নেমে আসে ৯ হাজার ৩৮৭টিতে। সংবাদ সম্মেলন শেষে উপস্থিত ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট এবং অনলাইন পত্রিকার সাংবাদিকদের সাথে খোলামেলা প্রশ্ন উত্তর পর্ব করেন।