৯ম পে-স্কেলের গেজেটের দাবিতে সরকারি কর্মচারী ঐক্য পরিষদের নতুন কর্মসূচি ও আলটিমেটাম

অভিজিৎ ব্যানার্জি, ঢাকা:  আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে ‘বৈষম্যমুক্ত’ ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ না হলে ১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন ঘোষণা দেন সংগঠনটির নেতারা। সংগঠনের মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলীর সভাপতিত্বে প্রতিনিধি সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সদস্য সচিব মো. মাহমুদুল হাসান। প্রতিনিধি সমাবেশ পরিচালনা করেন অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান উজ্জ্বল ও ১১-২০ ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুর রাজ্জাক। উক্ত সমাবেশে এম এ হান্নান, খায়ের আহমেদ মজুমদার, মো. সেলিম মিয়াসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।  

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় নিজ নিজ দপ্তরের মূল ফটকের সামনে ৩০ মিনিট অবস্থান করবেন সরকারি কর্মচারীরা। একই সঙ্গে অফিস প্রধানের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় নিজ নিজ দপ্তরের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানোর জন্য স্মারকলিপি দেওয়া হবে। এছাড়া ১ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলন করা হবে।

পরবর্তিতে আগামী ২ অক্টোবর সব সরকারি কর্মচারীকে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমবেত করা হবে। সেখান থেকে ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন অভিমুখে পদযাত্রা করা হবে।

এই সময় তারা ৭ দফা দাবি পেশ করেন। সাত দফা দাবি :

১. ১:৪-এর ভিত্তিতে ১২টি গ্রেডে সর্বনিম্ন বেতন-স্কেল ৩৫ হাজার টাকায় ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের নিমিত্তে পে-কমিশনের সুপারিশকৃত ‘বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেলের’ ৩১ আগস্টের মধ্যে গেজেট প্রকাশ করতে হবে। 

২. ২০১৫ সালে পে-স্কেলের গেজেটে হরণকৃত ৩টি টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল অথবা এক্ষেত্রে পে-কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে হবে এবং জ্যেষ্ঠতা পুনর্বহাল করতে হবে। 

৩. ব্লক পোস্টে কর্মরত কর্মচারীসহ সব পদে কর্মরতদের পদোন্নতি বা ৫ বছর পরপর উচ্চতর গ্রেড প্রদান করতে হবে। এছাড়া টেকনিক্যাল কাজে নিয়োজিত কর্মচারীদের টেকনিক্যাল পদের মর্যাদা দিতে হবে। 

৪. সব স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে গ্রাচ্যুইটির পাশাপাশি পেনশন প্রবর্তনসহ বিদ্যমান গ্রাচ্যুইটি/আনুতোষিকের হার ৯০ শতাংশের স্থলে ১০০ শতাংশ নির্ধারণ এবং পেনশন গ্রাচ্যুইটি ১ টাকার সমান ৫০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। 

৫. উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত পদের পদধারীদের প্রকল্পের চাকরিকাল গণনা করে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড প্রদান করতে হবে। 

৬. ২০০৮ সালের মার্চে অর্থ মন্ত্রণালয় হতে জারি করা বৈষম্যমূলক আদেশের বিপরীতে দায়েরকৃত মামলা নম্বর ১৩৭/২০১৫-এর রায় অনুযায়ী উক্ত আদেশ বাতিল করতে হবে। 

৭. বর্তমান বাজার মূল্যের সঙ্গে সঙ্গতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয় বিবেচনা করে বিদ্যমান ভাতাদি পুনর্নির্ধারণ এবং সামরিক/আধাসামরিক বাহিনীর ন্যায় (১১-২০ গ্রেডের) কর্মচারীদের রেশনিং পদ্ধতি চালু করতে হবে। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে বেতন ও পদ বৈষম্য নিরসনের লক্ষ্যে সচিবালয়ের ন্যায় সব সরকারি, আধাসরকারি দপ্তর, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের এক ও অভিন্ন নিয়োগবিধি প্রণয়ন করে কর্মচারীদের মধ্যে সৃষ্ট বৈষম্য দূর করতে হবে।

ঐক্য পরিষদের নেতারা বলেন, সরকার গঠিত পে-কমিশনের সুপারিশ করা ‘বৈষম্যহীন’ ৯ম পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নে গত ১০ আগস্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। ওই সময়ের মধ্যে গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হলো। নেতারা দাবি করেন, গত ১১ বছর ধরে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা নতুন পে-স্কেল থেকে বঞ্চিত। এ সময়ে সম্মিলিত মুদ্রাস্ফীতি ১০৮ শতাংশে পৌঁছেছে। ২০১৫ সালের বেতন দিয়ে ২০২৬ সালে কর্মচারীদের সংসারের ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাদের দাবি, কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে হবে।

More From Author

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন,মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

শ্রম আইন ২০২৬ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, মজুরি বোর্ড গঠন ও শ্রমবিধি প্রণয়নের দাবিতে গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent Comments

No comments to show.