অভিজিৎ ব্যানার্জি , ঢাকা: ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত রাজনৈতিক কারণে চাকরিচ্যুত ও নির্যাতনের শিকার বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের অবিলম্বে পুনর্বহাল, বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ নির্যাতিত শিক্ষক-কর্মচারী ফোরাম। শুক্রবার (৭ আগস্ট ২০২৬ইং ) রাজধানী ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এসব দাবি তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ বাহারউদ্দিন বাহার ও সদস্য সচিব রাশিদা রশীদ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তারা বলেন, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে রাজনৈতিক কারণে অনেক বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী চাকরি হারিয়েছেন এবং নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কিন্তু এখনো তাদের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। তাদের অভিযোগ, সরকার পরিবর্তনের পর দুই বছর পেরিয়ে গেলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা এখনও বেকারত্ব ও আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।
সংগঠনের নেতারা বলেন, গত ১৭ বছরে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অনেক শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। কারও পদোন্নতি আটকে দেওয়া হয়েছে, কারও বেতন বন্ধ রাখা হয়েছে। অনেককে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
তারা আরও বলেন, চাকরি ও বেতন না থাকায় অনেক শিক্ষক-কর্মচারী মানবেতর জীবনযাপন করেছেন। কেউ চিকিৎসার খরচ বহন করতে পারেননি, কেউ সন্তানদের পড়াশোনার ব্যয় চালাতে হিমশিম খেয়েছেন। অনেক শিক্ষক আদালতের নির্দেশ বা পরবর্তী সময়ে চাকরিতে ফিরলেও এখনো বকেয়া বেতন-ভাতা পাননি বলে অভিযোগ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে চার দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো—
১. চাকরিচ্যুত শিক্ষক-কর্মচারীদের সব বকেয়া বেতন-ভাতা দ্রুত পরিশোধ করতে হবে।
২. রাজনৈতিক কারণে চাকরি হারানো সবাইকে পুনর্বহাল করতে হবে।
৩. অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত হয়ে অবসরে যাওয়া বা অবসরের কাছাকাছি থাকা শিক্ষকদের সমমর্যাদার পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতে হবে।
৪. শিক্ষক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
সংগঠনের নেতারা তাদের দাবি বাস্তবায়নে সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।