স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে পর্যবেক্ষক মোতায়েন করেছিল ইওএস (EOS)

অভিজিৎ ব্যানার্জি, ঢাকা:  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: পর্যবেক্ষকদের তাৎক্ষণিক রিপোর্ট ও সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ নিয়ে আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে ব্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত তাৎক্ষণিক তথ্য ও সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ তুলে ধরে ইলেকশন অবজারভার সোসাইটি (EOS)। রাজধানী ঢাকার রিপোর্টারস ইউনিটিতে দেশব্যাপী সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে, কোনো ধরনের অর্থায়ন ছাড়াই ইলেকশন অবজারভার সোসাইটি (EOS) মোট ২৯৯টি সংসদীয় আসনে পর্যবেক্ষক মোতায়েন করে সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহ করেছে সংস্থাটি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শহীদুল ইসলাম আলী, সাধারণ সশাদক- মহিউদিন আমিন, সহ-সভপতি- ফেরদৌস আহসেদ, সদস্য মাহমুদা পারভিন,  রুহুল আমিনসহ আরো অনেকেই।

নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত প্রতিটি পর্যবেক্ষক সংস্থা তাদের বিস্তারিত প্রতিবেদন যথানিয়মে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন-এ জমা দেবে। আজকের এই উপস্থাপনা একটি সংক্ষিপ্ত সামগ্রিক মূল্যায়ন।নির্বাচন পূর্ব পরিস্থিতি ও প্রস্তুতিনির্বাচন আয়োজনের জন্য দীর্ঘ সময় পাওয়া গেলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা সময় লেগেছে। ফলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নির্বাচন ঘিরে কিছু অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বিরাজ করেছিল।তবে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনকে ঘিরে একাধিক ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছে। যদিও কিছু সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যমকর্মী ও পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা না হওয়ায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়। দাবির মুখে পরে কয়েকটি সিদ্ধান্ত সংশোধন বা প্রত্যাহার করা হয়— যেমন প্রতীকের অবস্থান পরিবর্তন, শাপলা প্রতীক অন্তর্ভুক্তির সময়কাল, পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র সংগ্রহ এবং মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিধিনিষেধ।ঋণখেলাপি ইস্যুসহ কিছু বিষয়ে কমিশন শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত বিবেচনায় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে, যা ইসির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে।পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যম কর্মিদের পরিচয়পত্র অনলাইন অফলাইন সিদ্ধান্তহীনতায় উভয়ের ভোগান্তি বাড়িয়েছে।

 ভবিষ্যৎ নির্বাচনের মানোন্নয়নের জন্য পর্যবেক্ষকদের সুপারিশ হল- ভোটকেন্দ্র নির্ধারণে আরও পরিকল্পিত ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ। বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভোটারদের সুবিধার্থে নিচতলায় বুথ স্থাপন। বয়সভিত্তিক ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনার বিষয় বিবেচনা। আচরণবিধি বাস্তবায়নে আরও কঠোরতা। যেকোন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকদের সংগে নির্বাচন কমিশনের সুষম সমন্বয়। পর্যবেক্ষকদের যাতায়ত এবং আনুসঙ্গিক ব্যয় বিষয়ে ভবিষ্যতে আরো বেশি গুরুত্ব দেওয়ার দরকার বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করেন।

উপসংহারসামগ্রিকভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পেশাদার ভূমিকা, প্রশাসনের সক্রিয়তা এবং ভোটারদের শান্তিপূর্ণ অংশগ্রহণ নির্বাচনকে সফলতার দিকে নিয়ে গেছে বলে পর্যবেক্ষকগণ অভিমত দিয়েছেন। এই নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি ইতিবাচক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে বলে পর্যবেক্ষকদের প্রাথমিক মূল্যায়নে উঠে এসেছে।

বিঃদঃ নির্বাচনের পরের দিন কিছু অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ আমাদের পর্যবেক্ষকগণ জানিয়েছেন।  এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য শুলিগরে মানহানিয় ঘটনা, এবং ফেনী ও টাংগাইলের ঘাটাইলের ঘরবাড়ী দোকানপাট ভাংচুরের ঘটনাসহ দেশের কিছু স্থানে বিচ্ছিন্ন সহিঝোতার ঘটনার খবর পাওয়া যায়।

More From Author

ঢাকা-১৬ আসনে ভোট ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ ও জালিয়াতির অভিযোগ আমিনুল হকের: পুনর্নির্বাচনের দাবি

বাতিল হওয়া ভোটের সমানও পেলেন না তারেক রহমান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *