বুড়িগঙ্গা দূষণ রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, এ্যানভায়রমেন্টাল ইনজাস্টিস এবং বৈষম্য দুরীকরণে কার্যকরী মানব বন্ধন

অভিজিৎ ব্যানার্জি, ঢাকা:   আমাদের প্রিয় বুড়িগঙ্গা নদী আজ ভয়াবহ দূষণের শিকার। অপরিকল্পিত শিল্পবর্জ্য, গৃহস্থালি আবর্জনা ও অব্যবস্থাপনার কারণে নদীটি তার স্বাভাবিক প্রাণশক্তি হারাচ্ছে, যা পরিবেশগত অবিচার (Environmental Injustice) সৃষ্টি করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকায় মারাত্মক বৈষম্য ডেকে আনছে।এ প্রেক্ষাপটে বুড়িগঙ্গা নদী রক্ষা, পরিবেশগত ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্য দূরীকরণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ও দূষণ মুক্ত করার আজ ২৩-০১-২০২৬ ইং সকাল ১১ ঘটিকায় প্রেসক্লাবে একটি শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ মানব বন্ধন কর্মসূচি আয়োজন করে পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. রাস বিহারী ঘোষের নেতৃত্বে অনেক সাংবাদিক, আইনজীবী এবং সমাজকর্মীরা।  

ড. রাস বিহারী ঘোষ বলেন, যখন আমি ছোট ছিলাম তখন আমার মতো অনেকেই প্রতিদিন বুড়িগঙ্গা নদীতে সাঁতার কাটতাম। কিন্তু বর্তমানে সেই পরিবেশ আর নেই। শিল্পবর্জ্য, গৃহস্থালি আবর্জনা ও অব্যবস্থাপনার কারণে নদীটি প্রায় মারাই যাচ্ছে। বিশেষ করে ময়লা আবর্জনা দুর্গন্ধ আশেপাশে থাকা যায় না। নদীর ভিতর অন্যান্য জৈব প্রাণ এবং মৎস্য সম্পদ একদম শূন্যের কোঠায় নেমে যাচ্ছে। এজন্য সকল শ্রেণীর মানুষদেরকে এই বিষয়ে এগিয়ে আসতে হবে। আগামী নির্বাচনে ইশতিহারে বুড়িগঙ্গাতে বাঁচাতে পদক্ষেপ রাখতে হবে।

উক্ত মানববন্ধনে বিশিষ্ট সমাজকর্মী এবং ব্যবসায়ী বলেন, এখানে দাঁড়িয়ে শুধু আমরা একা বুড়িগঙ্গা কে বাঁচাতে পারবো না। সকলের সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন। নির্বাচিত সরকারের প্রতিনিধিদেরকে এই বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে এবং নির্বাচনী ইশতেহারে এই বিষয়টিকে গুরুত্ব আকার দিতে হবে। আমাদের শহরের প্রাণ, এটিকে বাঁচাতে আমাদের সকলের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

শহরে নিরাপদ পানীয় জলের উৎসের তীব্র প্রয়োজন। কূপগুলির অত্যধিক ব্যবহারের ফলে দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে এবং পানির স্তর হ্রাস পাচ্ছে। ঢাকায় জলবাহিত সংক্রমণ এবং ক্যান্সার সৃষ্টিকারী এজেন্টগুলি কেবল নদীর জলের মাধ্যমেই নয়, বরং ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ভূগর্ভস্থ জলে দূষণের নির্গমনের মাধ্যমেও সংক্রামিত হয়। এই সমস্যার অনুপাত সমাধানের জরুরি প্রয়োজনীয়তা প্রদর্শন করে। অপরিশোধিত মানব, শিল্প, বাণিজ্যিক এবং কৃষি বর্জ্য থেকে দূষণ বুড়িগঙ্গাকে পানীয় জলের একটি অনিরাপদ উৎসে পরিণত করেছে। জলবায়ু পরিস্থিতি, ক্ষয় এবং পলিমাটির কারণে দূষণ আরও বেড়ে যায় যা নদীর তলদেশের জলপ্রবাহ এবং গভীরতা হ্রাস করে, এটিকে বিষাক্ত, ঘোলা এবং রোগ-ব্যাধিগ্রস্ত করে তোলে ।সমস্যাটি কেবল শহরের দূষণের ফলেই নয়। ঢাকার ভূগর্ভস্থ জলস্তর ব্যাপক ব্যবহারের কারণে দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে ।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, ঢাকায় ভর্তি হওয়া ৮৫ শতাংশেরও বেশি রোগী পানিবাহিত জীবাণু দ্বারা সৃষ্ট রোগে ভুগছেন। যদি ঢাকার পানির সরবরাহ এবং গুণমান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করার জন্য শীঘ্রই কোনও বাস্তব পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে শহরের বর্তমান ভূগর্ভস্থ জল সরবরাহ সম্পূর্ণরূপে হ্রাস পাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে । একই সাথে, এর নাগরিকরা জল দূষণকারীর স্বাস্থ্যগত ক্ষতিকারক প্রভাব এবং গুরুতর মহামারীর সম্ভাব্য প্রাদুর্ভাবের শিকার হতে থাকবে।আমি সর্বদা বাংলাদেশের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত এবং বর্তমান জাতি গঠনে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী ছিলাম। আমি দেশ-বিদেশের জনগণ এবং দাতা দেশগুলি সহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলিকে এগিয়ে আসার এবং একটি সমাধান তৈরিতে সহায়তা করার জন্য আবেদন করছি যাতে আমরা আমাদের কাছে উপলব্ধ সীমিত সম্পদের বুদ্ধিমানের সাথে ব্যবহার করতে পারি। সভ্য মানুষের ইতিহাস, উন্নয়ন এবং বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে জল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাবে। একটি ভাল গার্হস্থ্য জল সরবরাহ অবশ্যই স্বাদ এবং গন্ধমুক্ত হতে হবে; এতে অবশ্যই কম খনিজ পদার্থ থাকতে হবে এবং ক্ষয়কারী হতে হবে না ।

More From Author

আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উক্ত নির্দেশনার ৫ নম্বর ধারা বাতিল অথবা সংশোধন করতে হবে: বিএসিএ

বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সংকট নিরসনে ব্যর্থতার অভিযোগ: গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা মঞ্চের সংবাদ সম্মেলন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent Comments

No comments to show.