হঠাৎ করে কেন আমার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা- এহছানুল হক মিলন

মো: সাইফুল আলম সরকার, ঢাকা:   ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। বিএনপি’র সংগঠনিক কাজে ঢাকা আসার পর গত ৩০ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ব্যাংককে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যাত্রাকালীন সময়ে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জানতে পারেন তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। হঠাৎ করে এই নিষেধাজ্ঞা জেনে তিনি স্তম্ভিত হয়ে যান। তাই আজ ৩১ অক্টোবর ২০২৫ইং রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের দ্বিতীয় তলায় জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেন।

উপস্থিত সকল নেতাকর্মী এবং সাংবাদিকদের সামনে তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। সেখানে তিনি বলেন, আমি ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন, এই দেশের একজন নাগরিক। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। বর্তমানে আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি।

আমি চলতি মাসের ২০ তারিখ থেকে চিকিৎসার জন্য ব্যাংককে অবস্থান করছিলাম। সেখানে অবস্থানকালেই জানতে পারি যে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বৈঠকে আমাকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। দলের নির্দেশনা পেয়ে আমি চিকিৎসা অসম্পূর্ণ রেখে গত ২৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ব্যাংকক থেকে ঢাকায় ফিরে আসি। দলীয় ও সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে ৩০ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে পুনরায় ব্যাংককে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। যাত্রাকালীন সময়ে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন কাউন্টারে জানতে পারি, আমার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারন জানতে চেয়ে ও সদুত্তর পাইনি।

আমি ব্যাক্তিগতভাবে স্বচ্ছ, গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী মানুষ। কখনো কোনো চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র বা কোনোরকম দেশ বা রাষ্ট্র বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলাম না। দেশ এবং মানুষের ভালোবাসাই আমাকে আমেরিকার নাগরিকত্ব, পাসপোর্ট সারেন্ডার করে রাজনীতিতে আসতে প্রেরণা যুগিয়েছে।

বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আমি ও আমার পরিবার সহ সর্বস্তরের বিএনপি তথা ভিন্ন মতাদর্শী ব্যক্তিবর্গের ওপর অমানবিক নির্যাতনের ইতিহাস আপনারা সবাই জানেন। ঐ সময় বিরোধী পক্ষের কাউকে বিদেশ গমন করতে না দেওয়া- অত্যাচারের একটি অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতো। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়াকে মুমূর্ষ অবস্থায় তাহারা চিকিৎসার্থে দেশের বাহিরে যেতে দেয়নি। আমাকে অপ্রত্যাশিতভাবে বিদেশ যেতে না দেওয়ার এই ঘটনা অতিতের সেই নেক্কারজনক স্মৃতিগুলো মনে করিয়ে দেয়। আমি সরকারের কাছে জানতে চাই—কেন আমাকে বিদেশ যেতে দেওয়া হলো না? এই সরকার মহান ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের সরকার। আমার দল বিএনপি শুরু থেকেই মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. ইউনুস ও তাহার নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে।

মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. ইউনুসের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান রয়েছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—এই সরকারের কোনো সংস্থা বা বিভাগ কারো ভুল তথ্যে বা ষড়যন্ত্রে বিভ্রান্ত হবেন না এবং আমি সহ দেশের সকল নাগরিকের সাংবিধানিক ও নাগরিক, মানবিক অধিকার রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন ।

পরিশেষে বলতে চাই, আমি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সর্বদা সচেষ্ট আছি এবং থাকবো। রাষ্ট্রের প্রয়োজন, দেশ ও মানুষের কল্যানে সরকারের সাথে সর্বাঙ্গীণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছি।

More From Author

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসন থেকে সংসদ সদস্য হয়ে উপজেলাবাসীর পাশে থাকতে চাই- এম.এ হান্নান

যেকোন ব্যক্তি সম্পর্কে যাচাই না করে ইসকন-আওয়ামী দোসর ট্যাগ লাগিয়ে হুমকি নির্যাতন বন্ধ চাই- তৃণা রায় চৌধুরী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *