জাল এনআইডি কার্ড ও ভূয়া দলিল তৈরি করে অন্যের জমি বিক্রি করা প্রতারক চক্রের সদস্য তাজুল ইসলাম আটক

খায়রুল ইসলাম, ঢাকা:   প্রতারক চক্র বা গোষ্ঠী সারাদেশেই সয়লাব হয়ে আছে। একেক সময় তারা একেক রুপে আবির্ভূত হয় এবং ভিন্ন ভিন্ন অভিনব কায়দায় প্রতারনার জাল ফেলে প্রকৃত মালিকদের নিঃস্ব করে দেয়। প্রতারক চক্র নিজের নাম পরিচয় পরিবর্তন করে এমনকি অন্যের নামে জাতীয় পরিচয় পত্র বানাতেও দ্বিধাবোধ করেন না। এই পুরো বিষয়টির সাথে স্থানীয় কিহু অসাধু প্রশাসনিক কর্মকর্তা, কিছু অব: সামরিক কর্মকর্তা এবং স্থানীয় লোভী ব্যাক্তি গোষ্ঠী। 

এমনই এক প্রতারক চক্র’র ফাঁদে পরে সবকিছু হারাতে বসেছিলেন সাভার নবীনগর ২২ মাইল ঘোড়া পীর মাজার রোডের গণসাস্থ্য ফার্মাসিটিক্যাল এর অপজিটের জায়গার মূল মালিক মোহাম্মদ আলী, আনিসুর রহমান ও তাজুল ইসলাম। ১৯৯৬ সালে তাজুল ইসলাম, আনিসুর রহমান, মোহাম্মদ আলী মিলে এই জায়গাটি কিনেন। পরবর্তীতে ২০০৩ এ আর এসের সংশোধনীয় মালিকদের কাছ থেকেও কিনে নেওয়া হয় এবং জায়গা ভোগ দখল করে আসতেছেন। 

২০১০ সালে মোহাম্মদ আলী আনিসুর রহমান ও তাজুল ইসলাম থেকে বায়না রেজিস্ট্রি ও পাওয়ার ওফ অ্যাটর্নি নিয়ে নেন। মোট ক্রয়িত জমির পরিমাণ ছিল ৪২৪  শতাংশ। সেখানে থেকে জমি বিক্রয় করার পর অবশিষ্ট জমির পরিমাণ ৩৭৪ শতাংশ। উক্ত জায়গা নামজারি ওয়েবসাইটে আসল মালিকের তথ্য দেওয়া আছে। 

জমি বিক্রির সাইনবোর্ড দেখে গত দুই বছর ধরেই এক প্রতারক চক্র জমি হাতিয়ে নেয়ার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। তারা জাল এন আইডি কার্ড তৈরি করে জমি বিক্রি করার চেস্টা করে। এই চক্রের মূল হোতা আকবর আলী, মাসুদ এবং তাদের সহযোগী তাজুল ইসলাম। গত দুই বছর আগে একবার তারা প্রকৃত মালিকের দলিল জাল করে বিক্রি করার পায়তারা করার সময় ধরা পরে সহযোগী তাজুল ইসলাম। তিনি একজন প্রবাসী এবং প্রতারক চক্র’র ফাঁদে পরে সহযোগী হন বলে দাবী করে। তখন স্ত্রী সন্তান নিয়ে এসে হাতে পায়ে ধরে মাফ চাইলে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান। 

কিন্তু এবার এই প্রতারক চক্র বড় অংকের টাকা বায়না করে জমি বিক্রি করতে যায় মিরপুর ১ এর প্রিন্স হোটেলে। খবর পেয়ে জমির প্রকৃত মালিক পক্ষের লোকজন হাতে নাতে ধরতে যায়। বায়না করার সময় প্রতারক সহযোগী তাজুল ইসলামকে হাতেনাতে ধরলেও বাকি দুইজন হোতা আকবর আলী, মাসুদ রানা কৌশলে পালিয়ে যান। প্রতারক চক্রের তোফাজ্জল যিনি তাজুল ইসলাম নামধারী তিনি মালিক পক্ষ এবং স্থানীয় জনতার কাছে সমস্ত কিছু স্বীকার করেন। গতকাল ২৬শে জুন ২০২৬ইং শুক্রবার রাত ৭৩০ মিনিট কয়েকজন সাংবাদিক ডেকে লাইভ নিউজ করা হয়।

পরবর্তীতে ৯৯৯ এ কল দিয়ে দারুসসালাম থানায় যোগাযোগ করা হলে এএসাই হাসানসহ পুলিশের টীম এসে থানায় নিয়ে যায়। থানায় নেওয়ার পরে প্রতারক চক্রের তোফাজ্জল যিনি তাজুল ইসলাম নামধারী ( বাড়ি ঢাকার নবাবগঞ্জ) তার ভাষ্যমতে জাকির নামের এক লোকের ষড়যন্ত্রে তারা নাম পরিবর্তন করে NID তৈরি করে। এবং তাদের সিন্ডিকেটে অবসরপ্রাপ্ত বিভিন্ন মেজর, কর্নেল, রানিং কয়েকজন সচিব, রেল কর্মকর্তাও জড়িত রয়েছে বলে সে থানায় স্বীকারোক্তি দিয়েছে। 

তাদের অপর দুইজনের মধ্যে একজনের নাম আকবর আলী যিনি আনিসুর রহমান নাম ধারণ করেন। এবং তার এন আইডি কার্ড তৈরি করে। তাদের মধ্যে আরেকজনের নাম মাসুদ যিনি মোহাম্মদ আলী নামের সকল তথ্য দিয়ে এন আইডি কার্ড তৈরি করে। 

তোফাজ্জল তথা নকল তাজুল ইসলামের ভাষ্যমতে তারা বিগত দুই বছর আগে এন আইডি কার্ডের জন্য ফিঙ্গার এবং ছবি তুলে। এবং এই চার পাঁচ বছর ধরে এই জায়গাটার পিছনে তারা লেগে আছে। জমির মূল মালিক মোহাম্মদ আলী এবং তার বড় ছেলে মুশফিক সাংবাদিকদের জানায়, তাজুল ইসলাম আগেও আমাদের হাতে ধরা খেয়েছিল তখন সে মুচলেকা দিয়ে চলে যায়। তখন আশুলিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল। এভাবে সে আবারো আমাদের হাতে ধরা খায় যা পরবর্তীতে আমরা আইনের কাছে সোপর্দ করি। পুলিশ এসে দারুসসালাম থানায় নিয়ে গেলেও গতকাল তার ১২ টা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। মুশফিক আরো বলেন, আমরা চাই এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এই প্রতারক চক্র বা গোষ্ঠীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হউক এবং আমাদেরকে সকল হয়রানি থেকে মুক্তি দেয়া হউক। 

More From Author

মাদক প্রতিরোধে দুই পুরস্কার পেল ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent Comments

No comments to show.