আরবান প্রাইমারী হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারী প্রকল্পের-২য় পর্যায় সংবাদ সম্মেলন

অভিজিৎ ব্যানার্জি, ঢাকা:   আরবান প্রাইমারী হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারী প্রকল্প-২য় পর্যায় প্রকল্পের নির্মিত ১৯২টি স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থানীয় সরকার বিভাগ হতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তরের প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান অব্যাহত রাখা এবং পিএমইউ, পিআইইউ ও প্রকল্প এলাকায় কর্মরত ৪,৩৮২ জন দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা কর্মচারীর চাকুরী বহাল রাখা প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলন করে আরবান প্রাইমারী হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারী প্রকল্প-২য় পর্যায় প্রকল্পের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীবৃন্দ।

আজ বৃহস্পতিবার ৩০শে এপ্রিল ২০২৬ ইং রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের অডিটোরিয়ামে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।৷ উক্ত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চলমান রাখা এবং পিএমইউ, পিআইইউ ও প্রকল্প এলাকায় কর্মরত ৪,৩৮২ জন দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা কর্মচারীর চাকুরী বহাল রাখার উদ্যোগ গ্রহণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন ১। মো: তানভীর হোসেন সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার, ২। মোসা: শিরিন আক্তার মনিটরিং অফিসার, ৩। মো: জওসের মোল্যা মনিটরিং অফিসার।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরো বলেন, প্রকল্পের মাধ্যমে প্রদত্ত স্বাস্থ্যসেবার বিবরণ:প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত ৪৫টি পার্টনারশীপ এলাকার নগর মাতৃসদন ও নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে যে সেবাগুলো বিনামূল্যে প্রদান নিশ্চিত করা হয় সেগুলো হলো ১। প্রসব পূর্বকালীন সেবা। ২। প্রসবকালীন সেবা ৩। প্রসব-পরবর্তী সেবা ৪। মাসিক নিয়ন্ত্রণ সেবা। ৫। গর্ভপাত পরবর্তী সেবা ৬। পরিবার পরিকল্পনা সেবা ৭। নবজাতক ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা ৮। প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা ৯। কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য সেবা ১০। পুষ্টি সেবা, ১১। সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ ১২। অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ ১৩। সাধারণ রোগের চিকিৎসা ১৪। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও যোগাযোগের মাধ্যমে আচরণ পরিবর্তন সেবা ১৫। রোগ নিরূপণ সেবা ১৬। সহিংসতার শিকার নারীদের জন্য বিশেষ সহায়তা সেবা।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মতি:

সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মতির প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর ১৯৯৯ তারিখে একটি অফিস আদেশ জারী করা হয়।আইনী বাধ্যবাধকতা:“স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯” এবং “স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯” অনুসারে নগর এলাকায় বসবাসরত জনগোষ্ঠীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার উপর ন্যস্ত করা হয়েছে।বর্তমানে দেশে ১২টি সিটি কর্পোরেশন এবং ৩৩১টি পৌরসভা থাকলেও প্রকল্পের মাধ্যমে মাত্র ১১টি সিটি কর্পোরেশন এবং ১৮টি পৌরসভায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হচ্ছে। তাছাড়া সিটি করপোরেশন এলাকার সব মানুষ এখনও প্রকল্পের আওতাভুক্ত হয়নি। ৭০ মিলিয়ন শহরে জনগণের মধ্যে প্রকল্পের আওতায় মাত্র ১৭ মিলিয়ন মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হচ্ছে।আন্ত:মন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত:নগর এলাকায় সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা কর্তৃক স্ব স্ব অধিক্ষেত্রে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকল্পে সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও সংস্থাসমূহের দায়িত্ব নির্ধারণের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ২২ মার্চ ২০২১ তারিখে একটি পরিপত্র জারী করা হয়।

টেকসই স্বাস্থ্য ব্যবস্থা :সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভায় চলমান প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম টেকসইভাবে অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে গঠিত কার্যকরী কমিটির গত 24.05.2025 তারিখে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ হতে সংশ্লিষ্টদের বরাবরে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ও অর্থায়নে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালন বাজেটে ২টি ইকোনমিক কোড সৃজন পূর্বক ২০২১-২২ অর্থবছর হতে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাসমূহে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে।মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কাম্যঃসিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা (স্থানীয় সরকার আইন ২০০৯, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মতি, আন্ত:মন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী) এলাকায় নগরবাসীর প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম ১৯৯৮ সাল থেকে অদ্যাবধি স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক পরিচালিত আরবান প্রাইমারী হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারী প্রকল্প-২য় পর্যায় টেকসই ও সফলভাবে বাস্তবায়ন করছে। অত্র প্রকল্পের মাধ্যমে নির্মিত ১৯২টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র সরকার সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ প্রেক্ষিতে চলমান স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম কিভাবে চলবে এবং পিএমইউ, পিআইইউ ও প্রকল্প এলাকায় কর্মরত ৪,৩৮২ জন দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা কর্মচারীর বিষয়ে কোন নির্দেশনা না থাকায় বিভ্রান্তি তৈরী হয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চলমান রাখা এবং পিএমইউ, পিআইইউ ও প্রকল্প এলাকায় কর্মরত ৪,৩৮২ জন দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা কর্মচারীর চাকুরী বহাল রাখার উদ্যোগ গ্রহণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

তারা আরো তথ্য দেন, প্রকল্পের ৪৫টি পার্টনারশীপ এলাকার মাধ্যমে ১ মার্চ ২০১৮ – ৩০ জুন ২০২৫ সময়ে প্রদত্ত সেবার বিবরণ:√ ৩৪ লক্ষ ৬০ হাজার প্রসব পূর্ববর্তী এবং ১০ লক্ষ প্রসব পরবর্তী সেবা প্রদান;√ নরমাল ডেলিভারী এবং সিজারিয়ান সেকশন ডেলিভারীর মাধ্যমে ১ লক্ষ ৯০ হাজার শিশু জন্মগ্রহণ; √ ২৯ লক্ষ ১৪ হাজার ‘আধুনিক পরিবার পরিকল্পনা’ সেবা প্রদান;শিশুদেরকে বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক হিসাবে ৯৯.২ লক্ষ টিকা প্ৰদান;√ ১৬ লাখ ৬৭ হাজার কিশোর-কিশোরীকে এডোলেসেন্ট রিপ্রোডাক্টিভ হেলথ কেয়ার সেবা প্রদান; √ ১ কোটি ২৪ লক্ষ শিশুকে শিশু স্বাস্থ্য সেবা প্রদান;~ ১২ লক্ষ মা এবং শিশুকে পুষ্টি সেবা প্রদান;~ সেবা কার্ড এর মাধ্যমে নগর এলাকার ১ কোটি ৬৫ লক্ষ দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে বিনামূল্যে সেবা প্রদান।

।নাম ও পদবী১। মো: তানভীর হোসেন সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার২। মোসা: শিরিন আক্তার মনিটরিং অফিসার ৩। মো: জওসের মোল্যা মনিটরিং অফিসার

√ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যাচে এডিবি ঋণ ও অনুদান অর্থের মাধ্যমে প্রকল্পের মোট ৮৪৫০ জন কর্মীকে প্রশিক্ষণ প্রদান;√ জাতীয় গুরুত্ব বিবেচনায় প্রায় ৭০ লক্ষ কভিড-১৯ টিকা প্রদান করা হয়েছে।কর্মসংস্থান :১১টি সিটি কর্পোরেশন ও ১৮টি পৌরসভা এলাকায় পিএমইউ-৩১ জন, পিআইইউ-৪১ জনসহ প্রকল্প এলাকায় কর্মরত- ৪৩১০ জনসহ সর্বমোট ৪৩৮২ জন কর্মকর্তা কর্মচারী কর্মরত রয়েছে।আর্থ সামাজিক সুফল:প্রকল্পের মাধ্যমে প্রদত্ত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভা, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, নগরবাসী, সুশীল সমাজসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার কর্তৃক প্রশংসিত হচ্ছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে চলমান প্ৰাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম যাতে অব্যাহত থাকে সে বিষয়ে সুপারিশ করা হচ্ছে। এ প্রেক্ষিতে চলমান প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ৫ম পর্যায়ে আরো একটি প্রকল্পে অর্থায়ণ করতে আগ্রহী রয়েছে। প্রেক্ষাপট:নগর এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক ও কার্যক্রমের অপর্যাপ্ততা থাকার কারণে শহরবাসী বিশেষত দরিদ্র মানুষ অত্যাবশ্যকীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। এ প্রেক্ষাপটে নগরবাসী বিশেষত দরিদ্র জনগোষ্ঠিকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি ১৯৯৮ সাল থেকে এডিবিসহ অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্হার অর্থায়নে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে আরবান প্রাইমারী হেলথ কেয়ার প্রকল্পের মাধ্যমে নির্বাচিত সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মতি:সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে পরিচালনার বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মতি রয়েছে।

More From Author

শ্রমিক দিবসে আধূনিকের তামাকবিরোধী আলোচনা সভা ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *