মোহাম্মদ খাইরুল আলম, ঢাকা: বাংলাদেশে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি চন্দ্র মাস গণনা শুরু করার ক্ষেত্রে কুরআন, সুন্নাহ, ফিকহ, জ্যোতির্বিজ্ঞান এমনকি বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর হতে প্রতি মাসে অফিশিয়ালি প্রদত্ত নতুন চাঁদের স্থানাংক মানছেন না। ফলে বাংলাদেশের কোটি কোটি মুসলিম প্রতি রমজানের প্রথম রোজাটি ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। শাওয়াল মাসের প্রথম তারিখকে রমজানের শেষ তারিখ জ্ঞান করে ঈদের দিনে রোজা রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে আজ জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে চান্দ্র মাসের সঠিক তারিখ বাস্তবায়ন কমিটি।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে আয়োজক সংগঠন দাবি করেন, ইয়াওমুন নহর বা কুরবানীর দিনকে বাংলাদেশ ইয়াওমু আরাফা গণ্য করে হজ্জের দিনের খুবই ফজিলতপূর্ণ নফল রোজাটি মূলত কুরবানীর ঈদের দিন পালন করতে বাধ্য হচ্ছেন। অথচ শরীয়তে দুই ঈদের দিন রোজা রাখা হারাম। ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহার ঈদের সালাত একদিন পরে পালন করতে বাধ্য হয়ে ওয়াজিব তরকের গুনাগার হতে বাধ্য হচ্ছেন। তাশ্রীকের ওয়াজিব তাকবীর ১ দিন পরে শুরু করতে বাধ্য হয়ে প্রথম দিনের ৫টি ওয়াজিব তরকের গুনাহে লিপ্ত হতে বাধ্য হচ্ছেন। শবে কদর, শবে করায়াত, আতরা, প্রতি মাসে আইয়ামে বীজের নফল রোজা সঠিক দিন তারিখে পালন করতে পারছেন না। এমনটাই অভিযোগ উত্থাপন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই সমস্যাটি অনতিবিলনে সমাধানের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
চন্দ্র মাসের সঠিক তারিখ বাস্তববায়ন কমিটি আরো দাবি করেন, পবিত্র কোরআনের সূরা বাকারার ১৮৫ ও ১৮৯, সুরাহ তাওবা-৩৬, সূরা আর রহমান-৫, সূরা ইউনুস-৫ আয়াত সমূহ বুখারী শরীফ ১৯০৯, মুসলিম শরীফ ১০৮১ নং হাদিস এবং গত সাড়ে ১৩শত বছরের হানাফী, হাম্বলী, মালেকী মাযহাবের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯৮৬ সালের অক্টোবর মাসে আম্মান কনফারেন্সে বিশ্বের শতাধিক শরীয়াহ্ বিষেশজ্ঞের রায়ের ভিত্তিতে ওআইসি-এর ফিকহ একাডেমি সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন যে বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি অবলম্বন করার জন্য। কিন্তু বাংলাদেশ জাতীয় চাপ দেখা কমিটি শরীয়ত এবং বিজ্ঞান ভিত্তিক এ সিদ্ধান্ত না মেনে সৌদি আরবের একদিন পরে বাংলাদেশে চন্দ্র মাসগুলো শুরু হবে, অলিখিত এ রেওয়াজ অনুসরণ করে চলেছেন। এই সমস্যা সমাধানের জন্য ২০১৭ সনের ১৯ জানুয়ারি এবং ২ ফেব্রুয়ারি চন্দ্র মাসের সঠিক তারিখ বাস্তবায়ন কমিটির সাথে ইসলামিক ফাউন্ডেশন তথা জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু আলোচনা সভার প্রধান মধ্যস্থতাকারী ও আলোচনা সভার সভাপতি মরহুম অ্যাডভোকেট শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ সড়ক দুর্ঘটনায় শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে ২০১৮ সনের রাজনৈতিক অস্থিরতা, কোভিড-১৯, সভাপতির ইন্তেকাল ইত্যাদি কারণে বিষয়টির সমাধান অসমাপ্ত রয়ে যায়।এমতাবস্থায় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে চান্দ্র মাসের সঠিক তারিখ বাস্তবায়ন কমিটির সাথে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর অসমাপ্ত দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সম্পন্ন করে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এ সমস্যাটির অনতিবিলম্বে সমাধানের দাবিতে এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি, সহ-সভাপতি, মহাসচিব ছাড়াও আরোও অনেক দেশবরেণ্য উলামা ও বিশিষ্টজন।