আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উক্ত নির্দেশনার ৫ নম্বর ধারা বাতিল অথবা সংশোধন করতে হবে: বিএসিএ

অভিজিৎ ব্যানার্জি, ঢাকা:   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি হেলথের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) কর্তৃক গত ০৫/০১/২০১৬ এবং ০৭/০১/২০২৬ (সংশোধিত) তারিখে জারিকৃত প্যাথলজি ল্যাব সংক্রান্ত জরুরি নির্দেশনা (স্মারক নংঃ অধি/হাসঃ/নির্দেশনা/২০২৫/১৫) এর ৫ নম্বর ইস্যুতে বলা হয়েছে-

“রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকগণকে বিএমডিসি রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্রাজুয়েট হতে হবে । ”

এই নির্দেশনাটি বৈষম্যমূলক, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অযৌক্তিক এবং বিজ্ঞানভিত্তিক ল্যাবরেটরি বাস্তবতার পরিপন্থী বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্ট (BACB)। এই বিষয়ে তারা এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানায়।

গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে কেন এই নির্দেশনা বৈষম্যমূলক ও অযৌক্তিক সারা সাংবাদিকদের সামনে ব্যাখ্যা করেন।

আমরা অত্যন্ত দুঃখ ও উদ্বেগের সঙ্গে বলতে চাই যে, এই নির্দেশনার কারণে হাজারো ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টসহ অন্যান্য ল্যাবভিত্তিক বিশেষজ্ঞ পেশাজীবী ডায়াগনস্টিক সেক্টরে তাঁদের পরিশ্রম, দক্ষতা ও ন্যায্য পেশাগত ভূমিকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এটি শুধু পেশাগত মর্যাদার ওপর আঘাত নয়, বরং দেশের ডায়াগনস্টিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুতর হুমকি।

হঠাৎ করে শুধুমাত্র BMDC রেজিস্টার্ড চিকিৎসক দিয়ে রিপোর্ট স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করলে-

১। ল্যাবে রিপোর্ট স্বাক্ষরকারীর মারাত্মক সংকট তৈরি হবে।

২। হাজার হাজার ল্যাব কার্যত অচল হয়ে পড়বে

৩। রিপোর্ট ডেলিভারিতে মারাত্মক বিলম্ব হবে

৪। অল্পসংখ্যক প্যাথলজিস্ট দিয়ে এই ঘাটতি পূরণ অসম্ভব রোগীর জীবন, মৃত্যু ঝুঁকিতে পড়বে

৫। ডায়াগনস্টিক সেবার মান ও নির্ভুলতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সংবাদ সম্মেলনায় সংশ্লিষ্ট নেতৃত্ববৃন্দ বলেন, পেশাগত বৈষম্য পরিহার করে রোগী নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যখাতের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে

অতএব, আমরা জোরালো ভাবে দাবি জানাচ্ছি- আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উক্ত নির্দেশনার ৫ নম্বর ধারা বাতিল অথবা সংশোধন করে অন্যান্য বিশেষায়িত প্যাথলজিস্টদের পাশাপাশি নন-মেডিকেল ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টদের রিপোর্টে স্বাক্ষরের সুযোগ রেখে একটি বাস্তবসম্মত ও ন্যায়সঙ্গত নির্দেশনা জারি করতে হবে।

আইন ও নীতিগত বাস্তবতা:

বিদ্যমান স্বাস্থ্য আইন—বিশেষ করে প্রাইভেট ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ১৯৮২ এবং এর সংশোধনীতে-ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টদের রিপোর্টে স্বাক্ষরের অধিকার বাতিল করে শুধুমাত্র চিকিৎসকদের জন্য তা নির্ধারণ করার কোনো সুস্পষ্ট বিধান নেই ।

২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গঠিত স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনের সুপারিশমালা ৭(৪)-এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিগণ। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী-যোগ্যতা নির্ধারিত হয় competency, training ও experience দিয়ে, ডিগ্রির নাম দিয়ে নয় ।এই নির্দেশনা ISO 15189, CAP, WHO guideline-এর সাথে সাংঘর্ষিক ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) আইন, ২০১৪ ( ২০১৪ সনের ১০ নং আইন ) ১৪-এ বাংলাদেশ সরকার আইন করেই মলিকুউলার বায়োলজি ল্যাবরেটরিতে বায়োকেমিস্টদের স্বীকৃতি দিয়েছে ।

বক্তারা আরো বলেন, আমরা স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করছি—এই আত্মঘাতী, বৈষম্যমূলক ও বাস্তবতাবিবর্জিত নির্দেশনা অবিলম্বে প্রত্যাহার না করা হলে দেশের স্বাস্থ্য খাত বিশেষ করে ডায়াগনস্টিক ল্যাব ব্যবস্থা, চিকিৎসা সিদ্ধান্ত এবং সর্বোপরি জনগণের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা এক অপূরণীয় সংকটের মুখোমুখি হবে, যার দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।

More From Author

দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যখাতে সরকারের ব্যয় হ্রাস করতে সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি বাস্তবায়নের বিকল্প নেই

বুড়িগঙ্গা দূষণ রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, এ্যানভায়রমেন্টাল ইনজাস্টিস এবং বৈষম্য দুরীকরণে কার্যকরী মানব বন্ধন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent Comments

No comments to show.