শুধু চিকিৎসক নয়, সামাজিকভাবে জরায়ুমুখের ক্যান্সার সচেতনতা বাড়াতে হবে

অভিজিৎ ব্যানার্জি, ঢাকা:   জানুয়ারী মাস সারাবিশ্বে জরায়ুমুখের ক্যান্সার সচেতনতা মাস হিসেবে উদযাপন করা হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশে ২০১৭ সাল থেকে জানুয়ারীর দ্বিতীয় শনিবারকে বেসরকারিভাবে জরায়ুমুখের ক্যান্সার সচেতনতা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। এ বছর দিবসটি পালন উপলক্ষে ‘মার্চ ফর মাদার’ মোর্চার পক্ষে কমিউনিটি অনকোলজি সেন্টার ট্রাস্ট ও ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি, বাংলাদেশ আজ ১০ জানুয়ারি ২০২৬ শনিবার নিম্নোক্ত কর্মসূচী  পালন করেছে।

*আলোচনা সভা*

সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জননীর জন্য পদযাত্রার প্রধান সমন্বয়কারী ও গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক ক্যান্সার হাসপাতালের প্রকল্প সমন্বয়কারী, অধ্যাপক ডা. মোঃ হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ  ড.  হালিদা হানুম আখতার।

প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন কমিউনিটি অনকোলজি সেন্টার ট্রাস্টের চেয়ারপারসন অধ্যাপক সারিয়া তাসনিম ও গাইনাকোলোজিক্যাল অনকোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশ  এর  সভাপতি, কমিউনিটি অনকোলজি সেন্টার ট্রাস্টের ট্রাস্টি ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপার্সন অধ্যাপক সাবেরা খাতুন।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞা অনুযায়ী কোনো রোগে আক্রান্তের হার যদি প্রতি এক লাখে চারজনের নিচে নামিয়ে আনা যায়, তবে সেটিকে ‘এলিমিনেশন’ বা নির্মূল বলা যায়। জরায়ুমুখের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য তিনটি বিষয় একসঙ্গে বাস্তবায়ন জরুরি—ভ্যাকসিনেশন, স্ক্রিনিং এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা।

এই ক্যান্সারের জন্য দায়ী এইচপিভি নামের ভাইরাসের বিরুদ্ধে টিকাদান কর্মসূচী বাস্তবায়নে  সরকারের কর্মসূচীর প্রশংসা করে তিনি  জানান, গত বছর সারা দেশের  ১০-১৪ বছর বয়সী/ ৫ম-৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে এক  ডোজ এইচপিভি টিকা দেওয়া হয়েছে । এই  বছর থেকে ৫ম শ্রেণী / ১০ বছর বয়সী কিশোরীদের বিনামূল্যে এই টিকা দেওয়া হবে। শিক্ষার্থী  ও তার অভিভাবকদের এই বিষয়ে সচেতন করা আমাদের সবার দাযিত্ব। তবে স্ক্রিনিং ও চিকিৎসা , বিশেষ করে বিকিরণ চিকিৎসা পেতে এক বছর পর্যন্ত অপেক্ষা কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ আমাদের  সরকারকে এ বিষয়ে সাহসী প্দক্ষেপ নিতে হবে।

অধ্যাপক সাবেরা খাতুন বলেন, জরায়ুমুখ ক্যান্সারে আক্রান্ত ১০০ জন রোগীর মধ্যে মাত্র ৩০ জনের অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হয়। বাকি ৭০ শতাংশ রোগীর জন্য রেডিওথেরাপি অপরিহার্য হলেও দেশে এই সেবার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। তিনি বলেন, রেডিওথেরাপির সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আন্দোলন দরকার। শুধু চিকিৎসক নয়, যারা সামাজিকভাবে কাজ করেন—সবারই এই দাবি সরকারের কাছে তুলে ধরতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ড. হালিদা হানুম আখতার রেড ক্রিসেন্টের ৬৮ শাখায় পর্যায়ক্রমে ক্যান্সার সচেতনতা ও উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচী হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা ব্যক্ত করেন।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশ- এর সভাপতি সৈয়দ হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ ক্যান্সার ফাউন্ডেশনের মহাসচিব মাহবুব শওকত, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার মসিহউদ্দিন শাকের, সাবেক অতিরিক্ত সচিব আব্দুল হাকিম মজুমদার, লেখক আসিফ হাসান নবী। বক্তারা জরায়ুমুখের ক্যান্সারের অন্যান্য ঝুঁকি থেকে সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন। বাল্যবিবাহ, অধিক ও ঘন ঘন সন্তান ধারণ, ব্যক্তিগত অপরিচ্ছন্নতা ও অপুষ্টি এই রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

*জননীর জন্য পদযাত্রা* ও সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ

আলোচনা শেষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে মগবাজার চৌরাস্তা পর্যন্ত জননীর জন্য পদযাত্রা ও লিফলেট  বিতরণ করা হয়। পদযাত্রায় অংশ নেয় কমিউনিটি অনকোলজি সেন্টার ট্রাস্ট , ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ক্যান্সার ফাউন্ডেশন , গণস্বাস্থ্য সমাজ ভিত্তিক ক্যান্সার হাসপাতাল, গাইনী অনকোলজী সোসাইটি অব বাংলাদেশ- এর সদস্য ও  স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ।

More From Author

এলপিজি সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পরিবহন খাতে” শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *