কোটি টাকা হাতানোর অভিযোগে কুয়েত ভিসা সিন্ডিকেটের প্রধান আরেফের অনুসন্ধান শুরু

মো: সাইফুল আলম সরকার, ঢাকা:   কুয়েতে শ্রমিক ভিসা প্রসেসিংয়ে নির্ধারিত ফি’র চেয়ে কয়েকগুণ বেশি অর্থ আদায়ের অভিযোগে সিন্ডিকেটের প্রধান আব্দুস সালাম আরেফকে তলব করেছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বাজার প্রতিযোগিতা বিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছে সংস্থাটি।

প্রতিযোগিতা কমিশন সূত্র জানায়, কুয়েতে কাজের ভিসা (শ্রমিক ভিসা) প্রসেসিংয়ে সরকারি নির্ধারিত ফি মাত্র ৫ হাজার ৩০০ টাকা হলেও দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট ভিসাপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা করে আদায় করে আসছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৮ বছরে এই সিন্ডিকেট অন্তত ১ লাখ ৩০ হাজার অভিবাসীর কাছ থেকে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

এই সিন্ডিকেটের প্রধান হিসেবে অভিযুক্ত আব্দুস সালাম আরেফকে আগামী বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) প্রতিযোগিতা কমিশনে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দিতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের পাঠানো নোটিশে বলা হয়েছে, প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২ লঙ্ঘনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছে। নির্ধারিত তারিখে হাজির হতে ব্যর্থ হলে বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দিলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

রিক্রুটিং এজেন্সি সূত্র জানায়, কুয়েত বাংলাদেশের জন্য ষষ্ঠ বৃহত্তম শ্রমবাজার এবং রেমিট্যান্সের পঞ্চম বৃহত্তম উৎস। অথচ দেশে প্রায় ২ হাজার ৯০০ বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি থাকলেও মাত্র ১৪ থেকে ১৫টি এজেন্সি সিন্ডিকেট করে কুয়েতের ভিসা প্রসেসিং কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অন্তত ১ লাখ ৩০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী কুয়েতের কাজের ভিসা নিয়ে দেশটিতে গেছেন। এই সময়ে নির্ধারিত ভিসা ফি’র বাইরে তাদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আব্দুস সালাম আরেফ মর্ডান ওভারসীজ লিমিটেড ও এয়ার স্পিড প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব)-এর সভাপতি ছিলেন। তবে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত বছরের আগস্টে সরকার আরেফের নেতৃত্বাধীন আটাব কমিটি বিলুপ্ত করে প্রশাসক নিয়োগ দেয়।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, আটাবের শীর্ষ পদে থাকা অবস্থায় আরেফ তার প্রভাব খাটিয়ে কুয়েতের ভিসা প্রসেসিং কার্যক্রম একটি সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে নেন। এর ফলে ৫ হাজার ৩০০ টাকার ভিসা ফি বাড়িয়ে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হতো।

এদিকে প্রতিযোগিতা কমিশন সূত্র আরও জানায়, ভিসা সিন্ডিকেট ছাড়াও আরেফের বিরুদ্ধে উড়োজাহাজের গ্রুপ টিকিট মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে কমিশনের পরিচালক মোহাম্মদ ইকতিদার আলমকে আহ্বায়ক করে একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে।

সাধারণ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর দাবি, অবিলম্বে মর্ডান ওভারসীজ লিমিটেডের লাইসেন্স বাতিলসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে শ্রমিক অভিবাসন খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও সিন্ডিকেট প্রথার অবসান ঘটে।

More From Author

এস আই এঞ্জেলের সুর ও সংগীত পরিচালনায় সজীব হাসানের নতুন গান ‘পরান তুমি’

এলপিজি সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পরিবহন খাতে” শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Recent Comments

No comments to show.