জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিলুপ্তি নয়, সংস্কার চাই

মো: সাইফুল আলম সরকার, ঢাকা:  বাংলাদেশ ট্যাক্স ল’ইয়ার্স এসোসিয়েশন (বিটিএলএ) এবং ঢাকা ট্যাকসেস বার এসোসিয়েশন (ডিটিবিএ) এর মূল প্রতিপাদ্য বিষয় “জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিলুপ্তি নয়, সংস্কার চাই” নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে।

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব ঢাকার ৩য় তলার আব্দুস সালাম হলে আজ (৮ মে ২০২৫) সকাল ১১ টার সময় সংবাদ সম্মেলনের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জনাব অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, ভাইস চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কর আইনজীবী ফোরাম। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, রমিজ উদ্দিন আহমেদ, অ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুল মতিন, এ এইচ এম মাহাবুবুস সালেকিন, মোহাম্মদ আবু নাছের মজুমদার এবং এ টি এম রাশেদ বাবু সহ ট্যাক্স ল’ইয়ার্স এসোসিয়েশন (বিটিএলএ) এবং ঢাকা ট্যাকসেস বার এসোসিয়েশন (ডিটিবিএ) এর সম্মানিত সকল কর্মকর্তা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বৃন্দ।

“জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিলুপ্তি নয়, সংস্কার চাই”

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড শত বছরের পুরাতন একটি প্রতিষ্ঠান। ভারতীয় উপমহাদেশে ১৯২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত “সেন্ট্রাল বোর্ড অব রেভিনিউ” – এর কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় ১৯৭২ সালে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের রাজস্ব কর্তৃপক্ষ হিসাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রতিষ্ঠিত হয়।

আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় রাজস্ব সংগ্রহ ও প্রশাসনের জন্য একটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র রাজস্ব কর্তৃপক্ষ থাকা অত্যাবশ্যক। বিশ্বের প্রায় সকল দেশেই এই ধরনের সংস্থা বিদ্যমান যা রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে।

সম্প্রতি প্রণীত একটি খসড়া অধ্যাদেশে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিলুপ্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই অধ্যাদেশটি বাস্তবায়িত হলে, বাংলাদেশের স্বতন্ত্র রাজস্ব সংস্থাটি বিলুপ্ত হবে, যা রাজস্ব ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে এক গভীর শূন্যতা সৃষ্টি করবে এবং দেশের রাজস্ব ব্যবস্থার অপূরনীয় ক্ষতি হবে।

খসড়া অধ্যাদেশের ধারা ১৩ উপ-ধারা (১) অনুযায়ী এই অধ্যাদেশ কার্যকর হইবার সঙ্গে সঙ্গে, National Board of Revenue Order, 1972 (President’s Order No. 76 of 1972) রহিত হইবে এবং উহার অধীন প্রতিষ্ঠিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিলুপ্ত হইবে।

NBR কে সংষ্কার করে আরো শক্তিশালী করা প্রয়োজন। সেটা না করে উল্টো পথে হাঁটছে অর্ন্তবর্তী সরকার। এর ফলাফল কখনোই দেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে না।

আমরা কর আইনজীবীগন বাংলাদেশের রাজস্ব ব্যবস্থার প্রধান অংশীজন, অথচ আমাদের সাথে কোনরুপ আলোচনা বা মতবিনিময় করা হয়নি। অংশীজনদের মতামত ছাড়া, কোনরুপ গবেষণা ব্যতীত তড়িঘড়ি করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিলুপ্তির খসড়া অধ্যাদেশ, উপদেষ্টা পরিষদ কার স্বার্থে অনুমোদন দিল এটা জাতি জানতে চায়। রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত খসড়া অধ্যাদেশ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে, বাতিল চাই।

সবাই বক্তারা বলেন, আমরা প্রয়োজনীয় সকল সংস্কারের পক্ষে, রাজস্ব বোর্ড বিলুপ্তির পক্ষে নই। প্রয়োজনে আয়কর নীতি বিভাগকে সংস্কার করে আরো শক্তিশালী করা যেতে পারে।

দেশের সর্বোচ্চ রাজস্ব সংস্থা হিসাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে ১৬৬ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ থেকে শুরু করে বার্ষিক গড়ে প্রায় ১৪% প্রবৃদ্ধি ধরে রেখে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩,৬২,৭৯৮ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে হীন স্বার্থে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে জিডিপিকে অতি মূল্যায়িত করায় অধিকাংশ সময় উল্লেখযোগ্য রাজস্ব প্রবৃদ্ধি অর্জন স্বত্ত্বেও কর জিডিপি অনুপাত কখনো কাঙ্খিত পর্যায়ে যেতে পারেনি যা অন্তবর্তী সরকারের আমলে গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রতিবেদনে ও প্রতিফলিত হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কোন ব্যর্থ প্রতিষ্ঠান নয়। রাজস্ব বোর্ড বিলুপ্তির কারন সম্পর্কে জাতি অবহিত নহে। এমতাবস্থায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে বিলুপ্ত না করে রাজস্ব সংস্কারের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রমসমূহ, যেমন টেকসই রাজস্বনীতি প্রণয়ণ, রাজস্ব বিষয়ক আইনসমূহ প্রয়োজনীয় সংশোধন, রাজস্ব ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ণ ও অটোমেশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রাতিষ্ঠানিক সামর্থ বৃদ্ধি সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম বাস্তবায়নে সরকারকে উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য পরামর্শ দিচ্ছি।

অবিলম্বে দেশের রাজস্ব ব্যবস্থা ও রাজস্ব প্রশাসনে বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা সৃষ্টিকারী এবং রাষ্ট্রের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিলুপ্তির খসড়া অধ্যাদেশ বাতিল করতে হবে।

More From Author

নতুন দিগন্ত নতুন সূর্য

নতুন দিগন্ত নতুন সূর্য

রাষ্ট্র পরিচালনায় শ্রমিকের নেতৃত্ব ও অংশীদারিত্ব অনিবার্য দাবী- বাংলাদেশ কংগ্রেস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *