লকডাউনকে কেন্দ্র করে সরকার ক্র্যাকডাউনে নেমেছে: ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, লকডাউনকে কেন্দ্র করে সরকার ক্র্যাকডাউনে নেমেছে। ক্রাকডাউনে নেমে তারা আমাদের দলের ও অংগ সংগঠনগুলোর নেতাকর্মী ও অন্যান্য সংগঠনের নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, লকডাউনের সুযোগ নিয়ে ভয়াবহ করোনা ও রমজানে গ্রাম-শহর, পাড়া-মহল্লায় বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করতে অভিযান চালানো হচ্ছে। সর্বত্র আতঙ্ক ও ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের ভয়াবহ দুঃশাসনের বিরুদ্ধে কেউ যাতে টু শব্দ উচ্চারণ করতে না পারে, সেজন্যই রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন চালানোকে লক্ষ্য হিসেবে ধরে নিয়েছে সরকার। নির্যাতন-নিপীড়ন, গুম-খুন ইত্যাদি অপকর্মের মাধ্যমে দেশকে এক ভয়াবহ অরাজকতার দিকে ঠেলে দিয়েছে তারা। এর মাধ্যমে দেশকে তারা কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। দেশকে বিএনপি শূন্য করাই যেন আওয়ামী শাসকগোষ্ঠীর এখন প্রধান লক্ষ্য।

‘যেহেতু এ সরকার নির্বাচিত নয়, তাদের কোনো গণভিত্তি নেই। অত্যাচার নির্যাতন, গ্রেফতার, হামলা-মামলা দিয়েই তাদের ক্ষমতায় টিকে থাকতে হবে, সে কারণে এ পবিত্র রমজান মাসেও তারা এ ধরনের হীন কাজে লিপ্ত রয়েছে। তাদের চক্রান্ত ষড়যন্ত্র হচ্ছে এটাই যে, তারা যে করে হোক, গ্রেফতার, হত্যা, গুম নির্যাতনের মধ্য দিয়ে বিরোধীদলের যে সংবিধানসম্মত অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, কথা বলার স্বাধীনতা, লেখার স্বাধীনতা- সব কিছুকে দমন করে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বাস্তবায়িত করতে চায়।’

বাংলাদেশে এখন কোনো গণতন্ত্র নেই উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের যে সরকার আছে, তারা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না। তারা জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তারা আজ নির্বাচন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়েছে। প্রশাসনকে সম্পূর্ণ দলীয়করণ করা হয়েছে। বিচার ব্যবস্থাকে দলীয়করণ করা হয়েছে। মিডিয়াকে বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। এভাবে দেশে একটা অসম্ভব রকমের নিপিড়নকারী কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রে পরিণত করেছে।

এসময় মির্জা ফখরুল বলেন, করোনায় আক্রান্ত দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আল্লাহর অশেষ রহমতে এখন পর্যন্ত ভালো আছেন। সারাদেশের মানুষের দোয়ায় আশা করি, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠবেন।