স্বাস্থ্যবিধি মেনে এইচএসসি পরীক্ষা হতে পারে সেপ্টেম্বরে

স্থগিত এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে এই পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। ছাত্রছাত্রীদের বসানো হবে ‘জেড’ আকারে। এতে প্রথম বেঞ্চে দুইজন, দ্বিতীয় বেঞ্চে মাঝখানে একজন আর তৃতীয় বেঞ্চে দুইজনের আসন ব্যবস্থা করা হবে।

এভাবে গোটা কক্ষে শিক্ষার্থীদের বসানো হবে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মধ্যে দূরত্ব থাকবে কমপক্ষে তিন ফুট। সেই হিসাবে একেকটি উপজেলায় মোট পরীক্ষার্থীর তুলনায় কয়টি কক্ষ ও কেন্দ্র-উপকেন্দ্র লাগবে, সারা দেশে সেই সমীক্ষা চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) স্থানীয় শিক্ষকদের নিয়ে এ ব্যাপারে কাজ করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ইতঃপূর্বে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা ছিল যে, শ্রেণি কার্যক্রম শুরুর ১৫ দিন পর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নেয়া হবে। কিন্তু পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরুর বিষয়টি এখনও অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এমন বাস্তবতায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা আয়োজনের এই চিন্তা করা হয়েছে। সমীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে পরীক্ষার দিন-তারিখ নির্ধারণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

শিগগিরই এই পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করা হবে। যদিও একটি সূত্র আভাস দিয়েছে যে, করোনা পরিস্থিতির আর অবনতি না ঘটলে সেপ্টেম্বরে পরীক্ষাটি শুরু হতে পারে। এই পরীক্ষায় এবার প্রায় ১৩ লাখ ছাত্রছাত্রীর অংশ নেয়ার কথা।

এসব বিষয় নিশ্চিত করে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মু. জিয়াউল হক যুগান্তরকে বলেন, কবে নাগাদ শ্রেণি কার্যক্রম শুরু করা যায়, সেটি নিশ্চিত নয়।

এপ্রিলে এই পরীক্ষা নেয়ার সূচি ছিল। আর কতদিন অপেক্ষা করা যায়, আমরা সমীক্ষা চালাচ্ছি। এই প্রতিবেদন এবং বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ পর্যালোচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে।

জানা গেছে, জেএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষাসহ কোভিড-পরবর্তী শিক্ষা কার্যক্রম ও ‘রিকভারি প্ল্যান’ সম্পর্কে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত তিন সচিবের বৈঠক থেকে দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

ওই বৈঠকে পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা এ বছর না নেয়ার ব্যাপারে প্রস্তাব ওঠে। পরে এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সারসংক্ষেপ পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। আর স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণেরও সিদ্ধান্ত হয়। সেটা অনুযায়ী সারা দেশে সমীক্ষা চলছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের নীতি-নির্ধারণী সূত্র জানায়, কেন্দ্রগুলোয় স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতের অংশ হিসেবে কেবল আসন ব্যবস্থাই সাজানো হবে না, পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর গেটে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখা হবে।

পরিদর্শক ও পরীক্ষার্থীরা ভালোভাবে হাত পরিষ্কার করে ভেতরে প্রবেশ করবেন। প্রত্যেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের বাধ্যতামূলক মাস্ক পরতে হবে।

জেড আকারে শিক্ষার্থী বসানোর কারণে কোন কেন্দ্রে কত পরীক্ষার্থী বসানো হবে, সেই পরিকল্পনা তৈরি হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় মূল কেন্দ্রের অধীন পার্শ্ববর্তী ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে উপকেন্দ্র হিসেবে নির্বাচন করা হবে।

জানা গেছে, ইউএনওদের নেতৃত্বে ইতোমধ্যে জেলা-উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা সমীক্ষার কাজ করছেন। এ ব্যাপারে শিক্ষা বোর্ডগুলো থেকে নির্দেশনা সংবলিত চিঠি দেয়া হয়েছে।