সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই

বাংলাদেশে এখন বহুদলীয় গণতন্ত্র মৃতপ্রায়। দেশে কোনো রাজনীতি নেই। ভোটারবিহীন সরকার একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছে। গণতন্ত্র ও সুশাসনের অভাব সমস্ত রাষ্ট্রব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষের বাকস্বাধীনতা নেই। মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন চলছে। এক কথায় বলতে পারি, সম্পূর্ণভাবে গণতন্ত্রহীনতায় চলছে বাংলাদেশ। সংসদ চলছে জবাবদিহিহীন। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের যে চরিত্র, সেই চরিত্র এখানে পুরোপুরি অনুপস্থিত। দুর্নীতি ও অযোগ্যতা গোটা জাতিকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। সরকার দেশের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর উদযাপন করতে যাচ্ছে, অথচ যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে দেশকে স্বাধীন করা হয়েছে, সেই চেতনা এখন চরমভাবে ভূলুণ্ঠিত।

বিরোধী দল সেখানে ভূমিকা পালন করতে পারে, যেখানে গণতন্ত্র কার্যকর থাকে। আমাদের এখানে বহুদলীয় গণতন্ত্র কার্যকর নয়। বিরোধী দলের কাজ করার কোনো জায়গা নেই। শুধু বিএনপি নয়, কোনো বিরোধী দলই এ সুযোগ পাচ্ছে না। অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এ অবস্থা তৈরি করা হয়েছে। যাতে এখানে গণতন্ত্র চর্চা করা না যায়। প্রকৃতপক্ষে ওয়ান ইলেভেনের পর থেকেই এ বিরাজনৈতিকীকরণ শুরু হয়েছে। যে কারণে বিরোধী দল এখানে কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।

এ সংকটজনক পরিস্থিতি উত্তরণে শুধু বিএনপির একার দায়িত্ব নয়। এমনকি শুধু বিএনপির ভবিষ্যতের সঙ্গেও জড়িত নয়। এটা গোটা জাতির সঙ্গে জড়িত। বর্তমান গণতন্ত্রহীনতা ও জবাবদিহিহীন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে পুরো জাতির একটা উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার জন্য ঐক্যবদ্ধ একটি প্রচেষ্টা দরকার। আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আন্দোলনে রয়েছি। দেশের সব রাজনৈতিক দলকে সম্পৃক্ত করতে বিগত নির্বাচনের আগেও চেষ্টা করেছি। এখনও চেষ্টা করছি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথা বলছি। পাশাপাশি নিজেদের দলকে সংগঠিত করছি। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে প্রতিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি। এটা আন্দোলনেরই অংশ। এর মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌঁছতে পারি। নূ্যনতম কর্মসূচি এবং লক্ষ্যের ভিত্তিতে আমরা কাজ করার উদ্যোগ নিচ্ছি।