মিয়ানমারে গ্রেপ্তার ৫শ’তে ঠেকল, বিক্ষোভকারীদের ওপর আবার গুলি

অং সান সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণকারী সেনাবাহিনীর অভিযানে মিয়ানমারে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এক প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার এতথ্য জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম রয়টার্স।

সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উৎসাহ দেওয়ার অভিযোগে সর্বশেষ নতুন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে আরও ছয় তারকার বিরুদ্ধে।

বুধবার দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালায়ে ফাঁকা গুলি ছুড়েছে নিরাপত্তাকর্মীরা। ট্রেন বন্ধ করে বিক্ষোভ করার সময় আন্দোলনকারীদের ওপর এই গুলি ছোড়ে তারা। এতে একজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

গত পহেলা ফেব্রুয়ারি অং সান সু চির গ্রেপ্তারের পর বুধবারই প্রথমবারের মতো বড় ধরনের জমায়েত করে বিক্ষোভকারীরা। এদিন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী রাজপথে অবস্থান নেন।

এরপরই রাতে মিয়ানমারের স্থানীয় চলচ্চিত্র পরিচাল, অভিনেতা ও গায়কসহ মোট ছয় তারকার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করে সেনাবাহিনী। প্রত্যেককে দুই বছর করে সাজা দিতে পারে কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রেন চলাচল বন্ধ করে বিক্ষোভ করার সময় মান্দালায়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বুধবার সংঘর্ষ হয় নিরাপত্তাকর্মীদের।

এ সময় রাবার বুলেট ছোড়ে পুলিশ, পাথর ছোড়ার ঘটনাও ঘটেছে। এই ঘটনায় এক দাতব্যকর্মীর পায়ে রাবার বুলেট বিদ্ধ হয়। পুলিশ কিংবা সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কিছু জানানো হয়নি।

তবে সেনাবাহিনীর এক ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, জনগণের শান্তি ও সুনিদ্রা নিশ্চিত করতে শক্তি প্রয়োগ করছে সেনাবাহিনী।

মিয়ানমারের অ্যাসিসটেন্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনারস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত মিয়ানমারের সেনা অভ্যুত্থানে ৪৯৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত বন্দি আছে ৪৬০ জন।

মিয়ানমারে গত ৮ নভেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পায় অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য যেখানে ৩২২টি আসনই যথেষ্ট, সেখানে এনএলডি পেয়েছিল ৩৪৬টি আসন।

এনএলডি নিরঙ্কশ জয় পেলেও সেনাবাহিনী সমর্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) ভোটে প্রতারণার অভিযোগ তুলে ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল। তারা নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের দাবি তোলে। যদিও ইউএসডিপি ৭১টি আসনে জয় পেয়েছে।

গত পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে ওইদিন ভোরে স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি ও দেশটির প্রেসিডেন্টসহ এনএলডির শীর্ষ বেশ কিছু নেতাকে গ্রেপ্তারের পর এক বছরের জন্য মিয়ানমারে জরুরি অবস্থা জারি করে সেনাবাহিনী।

সেনাবাহিনীর ক্ষমতা গ্রহণের পর গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর ও গ্রেপ্তার নেতাদের মুক্তির দাবিতে আন্দোলনে নামে সাধারণ মানুষ। কিছু এলাকায় বলপ্রয়োগ করেছে কর্তৃপক্ষ। গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন একজন।

এরই মধ্যে সু চির রিমান্ডের মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন অভিযোগ এনে আটকে রাখা হয়েছে তাকে। মঙ্গলবার সামরিক জান্তার পক্ষ থেকে নতুন নির্বাচনের আশ্বাস দেওয়া হলেও তা নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে।