দেশজুড়ে কুয়াশার দাপট

বাসা থেকে বের হলে কয়েক হাত দূরের মানুষটির চেহারা অস্পষ্ট হয়ে উঠছে। পাকা সড়কে গাড়িগুলো চলছে প্রায় দুপুর পর্যন্ত হেডলাইট জ্বালিয়ে। কয়েকদিন ধরে কুয়াশা ঢাকা বাংলাদেশকে দেখছে দেশের মানুষ। ঢাকাসহ সারা দেশে চলছে এই কুয়াশার দাপট। আর এতে প্রায় সারাদেশে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে জনজীবন।

নৌরুটগুলোতে ফেরিসহ নৌযান চলাচল বন্ধ রাখতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে বিমান পরিচালনায় হিমশিম খেতে হচ্ছে। টানা সাড়ে ১১ ঘণ্টা ফ্লাইট ওঠানামার শিডিউলের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেয়।

শনিবার রাত ১২টা থেকে রবিবার সকাল ১১টা পর্যন্ত কোনো ফ্লাইট সময়মতো ওঠানামা করতে পারেনি। এ সময়ে ২৩টি ফ্লাইট শিডিউলে বিঘ্ন ঘটে। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে যখন একের পর এক ফ্লাইট অবতরণ করতে শুরু করে তখন দেখা দেয় এয়ারফিল্ডে স্থান সংকট। এক ঘণ্টার মধ্যেই গোটা বিমানবন্দরের এয়ারসাইট ভরে যায় উড়োজাহাজে।

চলতি শীত মৌসুমের বিভিন্ন সময় ঘন কুয়াশায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে মোট ৮৬ ঘণ্টা ফেরি সার্ভিস বন্ধ থাকল। এতে প্রায় কোটি টাকার রাজস্ব আয় (ফেরির টিকিট বিক্রি) থেকেও বঞ্চিত হয়েছে বিআইডাব্লিউটিসি।

ভেঙে পড়েছে সড়ক ও নৌপথের সময়সূচি। রাতের গাড়িগুলো সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। ফলে দিনের বেলায় যারা যাতায়াত করছেন, তারাও নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না।

কুয়াশা ও খানাখন্দের মহাসড়ক দিয়ে নির্ধারিত গতিতে যানবাহন চলতে না পারায় ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ফরিদপুর, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানজট লেগেই আছে।

উত্তরাঞ্চল থেকে যারা ঢাকায় আসছেন, তাদের এতটা ভোগান্তিতে পড়তে না হলেও প্রতিটি বাস নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর আসছে। কুয়াশার কারণে গাড়িগুলো আগের চেয়ে কম গতিতে চলছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, নদী অববাহিকাগুলো আরো কয়েক দিন কুয়াশায় ঢাকা থাকবে। তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লেও ঘন কুয়াশায় সূর্যের তাপ ভূ-ভাগে পৌঁছাতে পারছে না। ফলে দিনের তাপমাত্রা বৃদ্ধির বিষয়টি অনুভূত হচ্ছে না। এতে মানুষ একইরকম শীত অনুভব করছে। সেইসঙ্গে রয়েছে বাতাসের দাপট।

সোমবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারী থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং দেশের কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

কুয়াশার দাপট আরো বেশি ঢাকার বাইরে বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলে। কুড়িগ্রামে হাড় কাঁপানো শীতের সঙ্গে ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত অবস্থা নেমে এসেছে জনজীবনে। গতকাল রবিবারের মতো আজও সূর্যদেব দৃশ্যমান হওয়ার লক্ষন কম। দিনভর বাতাসে ছিল শীতের দাপট। বেলা গড়তেই বাড়তে থাকে শীত। ঘর থেকে বের হলেই শরীরে কাঁপন ধরায়। শীত ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন স্থবির হয়ে পরেছে। হাসপাতালে বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা।