জিদান কি ফ্রান্সের ভবিষ্যৎ কোচ?

হঠাৎ করেই রিয়াল মাদ্রিদের কোচের পদ ছেড়ে দেন জিদান। তার এমন সিদ্ধান্তে হতবাক হয়েছেন দিদিয়ের দেশ্যম। অনেকের মতে জিদানের এমন সিদ্ধান্তে আসন্ন বিশ্বকাপে বেশ চাপের মধ্যে থাকবেন ফ্রান্সের বর্তমান কোচ। তবে এমনটা মানতে রাজি নন তিনি। দেশ্যম বলেন, ‘জিদান ভবিষ্যতে ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দলের কোচের দায়িত্ব নেবেন।’

২০১৬ সালের ৪ জানুয়ারি রিয়াল মাদ্রিদের কোচের দায়িত্ব নেন জিদান। রাফায়েল বেনিতেজের জায়গায় কোচ নিযুক্ত হন তিনি। তার অধীনে একটি করে লা লিগা-স্প্যানিশ সুপার কাপ, দু’টি করে উয়েফা সুপার কাপ-ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ ছাড়াও টানা তিনবার চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জিতে রিয়াল। ছয় দিন আগে চ্যাম্পিয়নস লিগে শিরোপা জিতে হ্যাট্রিক পূর্ণ করে রিয়াল।

হ্যাট্রিক শিরোপার রেশ কাটতে না কাটতে রিয়ালের কোচের দায়িত্ব থেকে সরে যান জিদান। তার এভাবে সরে যাওয়াতে হতাশ হয়েছেন দেশ্যম। তবে ফ্রান্সের ভবিষ্যৎ কোচ হিসেবে জিদানকে দেখতে পাচ্ছেন তিনি। দেশ্যম বলেন, ‘এই মুহূর্তে সে বিশ্রাম উপভোগ করতে চায় এবং পরিবারের সাথে সময় কাটাবে। তবে একদিন জাতীয় দলের কোচ হবে সে। আমি বলতে পারছি না কখন, কিন্তু আমার মতে এটিই যৌক্তিক।’

ফ্রান্সের অধিনায়ক হিসেবে ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপ ও ২০০০ ইউরো আসরের শিরোপা জিতেন দেশ্যম। তার দলের গুরুত্বপূর্ণ মিডফিল্ডার ছিলেন জিদান।

শনিবার (২৬ মে) চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে লিভারপুলের বিপক্ষে ৩-১ গোলে জিতে হ্যাট্রিক শিরোপা জয় নিশ্চিত করে রিয়াল। বৃহস্পতিবার (৩১ মে) কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান জিদান। তবে স্প্যানিশ লিগে দলকে শিরোপার স্বাদ দিতে পারেননি তিনি। তাই ম্যানেজমেন্টের সাথে বোঝাপড়াটা নেতিবাচক হয়ে যাওয়ায় দায়িত্ব ছেড়ে দেন জিদান।

২০২০ সাল পর্যন্ত রিয়ালের সাথে চুক্তি থাকা জিদান বলেন, ‘আমি এ বছর দায়িত্বে থাকতে চাই না এবং আমি জয়ী, আমি হারতে পছন্দ করি না।’ ২০২০ সাল পর্যন্ত ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশনের সাথে চুক্তি রয়েছে দেশ্যমের। তার মনে হচ্ছে, জাতীয় দলের জন্যই জিদান রিয়ালের দায়িত্ব থেকে সরে গেছেন।

দেশ্যম বলেন, জিদানের সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ অভিযানে তার পরিকল্পনায় কোন প্রভাব ফেলবে না। তিনি বলেন, ‘আমি এটি নিয়ে চিন্তা করছি না। আমি দল ও দলের খেলোয়াড়দের উপর সম্পূর্ণভাবে মনোনিবেশ ও দৃষ্টি রেখেছি।’