কবীর সুমনের সঙ্গে কাজ করার কারণ জানালেন আসিফ

তারকা কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর। সম্প্রতি কবীর সুমনের কথা, সুর ও কম্পোজিশনে বেশ কিছু গান প্রকাশ করে শ্রোতার প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। এখন ব্যস্ত আছেন আরও কিছু নতুন গানের আয়োজন নিয়ে। এ সময়ের ব্যস্ততা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হয় তার সঙ্গে-

‘সিরিয়ার ছেলে’ গানটি প্রশংসিত হওয়ার পরই কি পরিকল্পনা করেছিলেন কবীর সুমনের কথা, সুর ও কম্পোজিশনে একের পর এক গান করে যাবেন?

গানটি যখন গাই, তখনই মনে হয়েছিল, এটি শ্রোতার মনে দাগ কাটবে। কিন্তু এই গানের সূত্র ধরে আরও আরও কিছু কাজ করার সুযোগ হবে- এটা ভাবিনি। তাই সুযোগ যখন পেলাম, তা হাত ছাড়া করিনি। কারণ কবীর সুমন এই উপমহাদেশের গুণী শিল্পী, গীতিকার, সুরকার ও কম্পোজারদের একজন। তার সঙ্গে কাজ করতে পারা যে কারও জন্যই আনন্দের। ‘সিরিয়ার ছেলে’ গানের পর কবীর সুমনের কথা ও কম্পোজিশনের ‘লুকোনো মানিক’, ‘এখনও সেই আসিফ আমি’, ‘আমার একার নয়’ গানগুলো প্রকাশ করা।

ক্যারিয়ারের শুরু থেকে নানা ধরনের গান করে আসছেন, তার পরও কি মনে হয়, গায়কিতে নিজেকে আরও নতুনভাবে তুলে ধরা উচিত?

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলতে হলে সবসময় নতুন ভাবনা নিয়ে কাজ করতে হয়। তাই প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে যে ধরনের করি, তার ছাপ একক গানে রাখি না। সময়ের চাহিদাকে পূরণ করা ছাড়াও শিল্পী সত্তাকে খুশি করতেও এমন কিছু গান করতে চেয়েছি, যা যুগের পর যুগ শ্রোতার মাঝে বেঁচে থাকবে। কবীর সুমনের সঙ্গে কাজ করার পেছনে এটাও একটা কারণ।

লকডাউনের পর সংগীতাঙ্গনের অবস্থা কেমন বলে মনে হচ্ছে?

লকডাউন উঠে গেলেও করোনার আক্রমণ তো শেষ হয়ে যায়নি। তাই প্রতিদিনই মানুষ কোনো না কোনো দুঃসংবাদ পাচ্ছেন। এমন সময় মানুষ বিনোদন নিয়ে ভাববে কখন। তা ছাড়া স্টেজ শো, নেই, টিভি লাইভ সেভাবে হচ্ছে না। যেজন্য শিল্পী, গীতিকার, সুরকার, সংগীতায়োজক থেকে শুরু করে গানের প্রকাশক সবারই খারাপ সময় যাচ্ছে। সংগীতাঙ্গন এখন অনেকটাই নিস্তেজ হয়ে পড়েছে।

এরপর তো নতুন গানের প্রকাশনা থেমে নেই…

বেঁচে থাকা যখন জরুরি তখন পেশাদার শিল্পী ও মিউজিশিয়ানরা কতদিন হাত গুটিয়ে বসে থাকবে? কারও পক্ষে দিনের পর দিন বসে থাকার সুযোগ নেই। তাই সাহসী হয়ে অনেকে কাজ শুরু করেছেন। একটি জীবাণুর কাছে কোনোভাবেই পরাজয় স্বীকার করা যাবে না- এই ভাবনা নিয়েই আমরা অনেকে কাজ করে যাচ্ছি। আমিও সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যতদিন সুস্থভাবে বেঁচে আছি ততদিন গাইব এবং গান প্রকাশের ধারাবাহিকতা ধরে রাখব।

গানের পাশাপাশি অভিনয় নিয়ে কিছু ভাবছেন?

অভিনয় নিয়ে একদমই ভাবছি না। ‘গহীনের গান’ ছবির পাশাপাশি অনেক মিউজিক ভিডিওতে অভিনয় করেছি। আর কত, আমি গানের মানুষ গানকেই প্রাধান্য দিতে চাই। গানের জন্য অনেক কিছু করতে পারি; কিন্তু অভিনয়ের কথা মাথায় রেখে কোনো কিছু করার ইচ্ছা নেই।

দেশ ও সমাজে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা ও বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন সময় আওয়াজ তুলেছেন। রাজনৈতিক চিন্তাধারা থেকেই কি এই প্রতিবাদ?

না। একটি দেশের নাগরিক ও বিশ্বের একজন সচেতন মানুষ হিসেবে সব অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আর অধিকার আদায়ের জন্য আমি আওয়াজ তুলেছি। এর সঙ্গে আমার রাজনৈতিক চিন্তাধারা এক করে দেখা ঠিক হবে না। সবার আগে আমি একজন মানুষ, তাই মানবিক বিষয়গুলো নিয়েই আগে ভাবি; অন্যদেরও ভাবা উচিত বলে মনে করি।