এক গ্রামেই মেয়রসহ ১০ প্রার্থী, বিব্রত গ্রামবাসী

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পৌরসভা নির্বাচনে পোষ্টকামুরী গ্রাম থেকে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী সালমা আক্তার শিমুল প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। একই গ্রাম থেকে কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন আরও ৯ জন। মেয়র পদে ভোট দেয়া নিয়ে কোনো সংশয় না থাকলেও কাউন্সিলর ও নারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের ভোট প্রদানে বিব্রত গ্রামবাসী।

প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোট প্রার্থনায় বাড়ি বাড়ি চলছে প্রার্থী ও তাদের কর্মীদের আসা যাওয়া। প্রার্থীদের সকলেই গ্রামবাসী এবং প্রতিবেশী। এ কারণে গ্রামটির ভোটাররা কাকে রেখে কাকে ভোট দিবেন এ নিয়ে বেশ বিব্রত। মির্জাপুর পৌর শহরের পোষ্টকামুরী তিনটি ওয়ার্ডের অংশ। ওয়ার্ডগুলো হলো ১, ২ ও ৪ নম্বর। আগামী ৩০ জানুয়ারি শনিবার মির্জাপুর পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জানা গেছে, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি টানা চারবারের এমপি মো. একাব্বর হোসেন, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক, যুগ্ম আহবায়ক, উপজেলা স্বেচ্ছাসেকলীগের সভাপতি, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, পৌর যুবলীগ ও পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি, উপজেলা বিএনপির দুইজন সহসভাপতি, পৌর বিএনপির সভাপতি, উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি, পৌর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পদকসহ পদ পাওয়া স্থানীয় শীর্ষ নেতা, প্রেসক্লাব মির্জাপুর, রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা মির্জাপুরের সভাপতির বসবাস এই গ্রামটিতে।

গ্রামটির মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পেশায় নিয়োজিত থেকে উপজেলার সর্বত্র সুনামের সঙ্গে কাজ করে চলেছেন। তৃতীয় ধাপের ৩০ জানুয়ারি পৌরসভা নির্বাচনে এ গ্রাম থেকে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন, পৌরসভার প্রয়াত মেয়র পোষ্টকামুরী গ্রামের সাহাদত হোসেন সুমনের স্ত্রী আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী বর্তমান মেয়র সালমা আক্তার শিমুল। একই গ্রামে এক নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী দুইবারের কাউন্সিলর এস এম রাশেদ (পানির বোতল), সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল জলিল খান (উটপাখি), দুই নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর আমিরুল কাদের লাবন (পানির বোতল), চার নম্বর ওয়ার্ডে মিন্টু মিয়া (উটপাখি)। সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে এক নম্বর ওয়ার্ডে (১,২,৩) আসমা ইসলাম (আনারস), ঝুমা বেগম (অটো রিক্সা), আফসানা আক্তার (টেলিফোন), বেগম (জবা ফুল) ও দুই নম্বর ওয়ার্ডে (৪,৫,৬) রওশন আরা বেগম (আনারস)।

ভোটাররা জানান, এক প্রার্থীর কর্মীরা ভোট ও দোয়া চেয়ে বাড়ি থেকে বের হতে না হতেই অন্য প্রার্থী ও তার কর্মীরা বাড়িতে হাজির হচ্ছেন। ভোট চাইতে আসা প্রার্থী ও কর্মীদের সাথে সময় দিয়ে মহিলারা বিব্রত হচ্ছেন বেশি। কারণ তাদের সংসারের দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। এ অবস্থায় অধিকাংশ নারী ভোটাররা বেকায়দায় পড়ছে বলে তারা জানান।পোষ্টকামুরী গ্রামের এক নম্বর ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, ওয়ার্ডে নারী প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় প্রার্থীরা দিন-রাত কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন। প্রচারণাকালে দিচ্ছেন উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি।

অন্যদিকে পোষ্টকামুরী গ্রামের একাংশ, বাইমহাটী গ্রামের একাংশ ও কুমুদিনী কমপ্লেক্স নিয়ে দুই নম্বর ওয়ার্ড গঠিত। এ ওয়ার্ডে উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে নির্বাচন হচ্ছে এলাকাভিত্তিক। ভোটার মোর্শেদা আক্তার, তাসলিমা আক্তার ও রিনা বেগম জানান, এক ওয়ার্ডে প্রতিবেশি চারজন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিল পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সবাই আপন। কাকে রেখে কাকে ভোট দিবো এ নিয় আমরা বিব্রত। তবে একদিনের হিসেব নয়, পাঁচ বছরের হিসেব কষে প্রার্থী নির্বাচিত করবেন বলে তারা জানান।

উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সাবেক ভিপি আবু আহমেদ জানান, মেয়র প্রার্থীসহ ভোট দিতে পারবেন তিনটি। প্রার্থী হয়েছেন সাতজন। সবাই আপনজন। মেয়র প্রার্থীর ভোট নিয়ে কোন সংশয় নেই। তবে ছোট একটি ওয়ার্ডে এতো প্রার্থীর মধ্যে ভোটাররা একটু চিন্তিতই বলে তিনি মনে করছেন। এক নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী এস এম রাশেদ জানান, তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নিকট আত্মীয় ফুফাতো ভাইয়ের মেয়ের জামাই। তাকে দুইবার পরাজিত করে নির্বাচিত হয়েছি। এবারও ওয়ার্ডবাসী তাকে ভোট দিয়ে জয়ী করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থী আসমা ইসলাম বলেন, তার স্বামী ১৪ বছর ধরে ওয়ার্ড কাউন্সিলর। মানুষের পাশে থেকেই কাজ করছেন। সেজন্যই ভোটাররা তাকে ভোট দিয়ে জয়ী করবেন।

ঝুমা বেগম বলেন, ১, ২ ও ৩ ওয়ার্ডের ভোটারদের সাথে আমার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ভোটাররা আমাকে আপন করে নিয়েছেন। তাদের ভোটে আমি জয়ী হবো। মির্জাপুর পৌরসভায় মোট ভোটার ভোটার ২১ হাজার ৬৬৯জন। এরমধ্যে নারী ১১ হাজার ৪৬৫ ও পুরুষ ভোটার ১০ হাজার ২০৪ জন। ২০০০ সালে মির্জাপুর পৌরসভা গঠিত হয়। ২০০২ সালে প্রথম নির্বাচনে পোষ্টকামুরী গ্রামের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট মোশারফ হোসেন মনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

২০১১ সালে দ্বিতীয় নির্বাচনে সদর ইউনিয়ন পরিষদের দুইবারের সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা শহীদুর রহমান মেয়র নির্বাচিত হন। ২০১৫ সালে তৃতীয় নির্বাচনে একই গ্রামের সাহাদত হোসেন মেয়র নির্বাচিত হন। গত বছর ১১ ফেব্রুয়ারি মেয়র সুমন মারা যান। ১০ অক্টোবর তার স্ত্রী শিমুল উপনির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন।