ঈদের দিন শ্বশুরের কাছে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে শিকলবন্দি জামাই

শশুরের সাথে জামাইর সম্পর্কটাই থাকে অন্যরকম। যেখানে একটু লাজুকতা কিংবা স্নেহের বন্ধন। তবে মাঝে মাঝে কাকতালীয় কিছু ঘটনার জন্ম দেয় তখন জামাই শশুরের সম্পর্কের তিক্ততাও ফুটে উঠে।

এমনই এক ঘটনা ঘটেছে বরগুনার পাথরঘাটায়। শ্বশুরের কাছে পাওনা টাকা চাইতে এসে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন শফিকুল ইসলাম নামে এক যুবক। তাকে শারীরিক নির্যাতন করে ১৬ দিন ঘরে শিকলবন্দি করে রেখেছেন শ্বশুর বাড়ির লোকজনে। পাথরঘাটা পৌর সভার ৩নং ওয়ার্ডে উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন আঃ হক মাস্টারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

শফিকুল ইসলাম জানান, তিনি ঢাকা তিতুমীর কলেজ থেকে ক্যামেস্ট্রিতে মাস্টার্স পাস করে টেক্সটাইলের ওপর পিএইচডি করেন। লেখাপড়া শেষ করে নিজের ব্যবসা হিসেবে বাংলাদেশ টেক্সফাইট বাইংহাউজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্যবসা শুরু করেছেন। বিবাহের পর তার স্ত্রী জেসমিন আক্তারকে তিনি ওই কোম্পানির পরিচালক পদে বসান।

এরপর ব্যবসা থেকে জেসমিন আক্তার তার বাবাকে বিভিন্ন সময় বাড়ি নির্মাণ ও ব্যবসায় অর্থ যোগান, দুই ভাইকে বিদেশ পাঠানোসহ প্রায় এক কোটি ৬০ লক্ষ টাকা ধার দিয়েছেন তার বাবা আবদুল হক মাস্টারকে। পরে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর শফিকুলের ব্যবসায় ধ্বস নামে। এরপর শফিকুলের শ্বশুরকে টাকা ধার দেয়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হয়।

এ সময় স্বামীর সাথে রাগ করে স্ত্রী জেসমিন আক্তার ব্যবসার সকল টাকা নিয়ে তার বাবার বাড়ি চলে আসে। পরে গত ১৪ জুলাই শফিকুল পাথরঘাটায় তার শ্বশুর বাড়িতে স্ত্রী ও সন্তানদের নিতে আসলে ধারের টাকা নিয়ে শশুরের সাথে বাকবিতন্ডা হয়। এ সময় শফিকুল আইনের আশ্রয় নেয়ার কথা জানালে, শ্বশুর আবদুল হক, শ্যালক রুমান হোসেন ও স্ত্রী জেসমিন আক্তার শফিকুলকে মারধর করে ১৬ দিন পর্যন্ত শিকল দিয়ে ঘরে বেঁধে রেখেছে।

শফিকুল জানান, গতকাল শ্বশুর বাড়ির লোকজন কোরবানির পশু জবাহ করা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় আমি শিকলসহ ঘর থেকে বের হয়ে দৌড়ে গিয়ে ইউএনওর বাসায় গিয়ে তার কাছে বিষয়টি বলেছি। ইউএনও বিষয়টি জানান, ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবু বকর সিদ্দিক মিল্লাত এসে আমার পায়ে লাগানো শিকল খুলে দিয়েছে।

ফিকুল ইসলামের শ্বশুর আবদুল হক মাস্টার বলেন, জামাই শফিকুল আমার মেয়েকে নির্যাতন করেছে। সে অসুস্থ, এ কারণে তাকে শিকল পড়ানো হয়েছে। তাকে কোন নির্যাতন করা হয়নি। জামাই কিছু টাকা পাবে, তা পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে।

এ বিষয় পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির জানান, তিনি ঈদের দিন দুপুরে তার বাসায় মেহমান নিয়ে খাবার খাচ্ছিলেন। এমন সময় শিকল পড়া অবস্থায় এক লোক এসে তার কাছে নির্যাতনের মৌখিক নালিশ জানিয়েছেন। শফিকুল আইনের আশ্রয় নিলে তাকে সহযোগিতা করা হবে।